২-৫ লাখ টাকায় সনদ মেলে ইউনিভার্সিটি অব

২-৫ লাখ টাকায় সনদ মেলে ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার


দেশের গর্জন ফটো

নিজস্ব প্রতিবেদক: পড়াশোনা কিংবা পরীক্ষা কোনটাই প্রয়োজন নেই, দরকার শুধুই টাকা। তাহলেই আপনি ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন কাঙ্খিত সার্টিফিকেট। অনুসন্ধানে এমনই এক সার্টিফিকেট বিক্রিকারী উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সন্ধান মিলেছে। ডিগ্রী ভেদে এসব ভূয়া সার্টিফিকেট নিতে খরচ হচ্ছে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। আর এসব ভূয়া সার্টিফিকেট নিয়ে পরবর্তীতে নানা সমস্যায় পড়ছেন ভূক্তভোগীরা। ইতোমধ্যে অনুমোদনহীন এসব ভূয়া সার্টিফিকেটের বেশ কিছু কপিও এসেছে এ প্রতিবেদকের কাছে। জানা যায়, রাজধানীর উত্তরায় পলওয়েল সুপার মার্কেটের উপরে জায়গা ভাড়া নিয়ে একটি অসাধু চক্র ‘‘ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা ’’ নামে সার্টিফিকেট বিক্রি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ শায়খ মোহাম্মদ বায়েজীদ উল হাসান ও তার সহযোগী ফিরোজ, এনামুল, বাবু, মেহেদী, তানভীরের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে বিশাল এক সিন্ডিকেট। তারা ব্যাচেলর ও মাষ্টার্স ডিগ্রী, বিবিএ-এমবিএ, ইএমবিএ সহ প্রায় অর্ধশতাধিক শর্ট কোর্সেরও সার্টিফিকেট বিক্রি করছে দেদারছে। টাকা হলেই মিলে যেকোন ধরনের সার্টিফিকেট। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন সূত্রে জানা যায়, এ বিশ্ববিদ্যালয়টির কোন অনুমোদনই নেই। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে ইতোমধ্যে পত্রিকায় বেশ কয়েকটি গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে কমিশন। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রটি আগে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটির নামে সনদ বিক্রি করতো। তাদের কাজই হলো সার্টিফিকেট বিক্রি করা। তারা কয়েকটি ধাপে এসব ভূয়া সার্টিফিকেট হস্তান্তর করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সব সনদ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। প্রথমে তাদের ভর্তি খাতাসহ সব জায়গায় নাম থাকে। কিছু দিন পর সেসব সনদের তথ্য ইউনিভার্সিটির মূল সার্ভার থেকে মুছে ফেলা হয়। ফলে বিভিন্ন দপ্তর, পরিদপ্তরে সার্টিফিকেটধারীরা চাকরীর জন্য আবেদন করলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউনিভার্সিটির ট্রেজারের দায়িত্বে থাকা তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সার্টিফিকেট বানিজ্যের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার সবকিছু দেখভাল করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। তিনি এটার অল ইন অল। কোনো দুর্নীতি হলে তারই হাত দিয়ে হওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। দুর্নীতি করলে তিনি তার কিছু লোকজন নিয়ে করতে পারেন। এ বিষয়ে আমরা নিজেরাও উদ্বিগ্ন। আমিসহ আমাদের ট্রাস্টিবোর্ডের অন্য সদস্যরাও একটা বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন যে কয়েকদিন পর পর সার্ভার থেকে ছাত্রদের আইডি মুছে যায়। কিন্তু কীভাবে এটা হচ্ছে বা কে করছে তা নিয়ে আমাদের ট্রাস্টিবোর্ডে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা নিজেরাও উদ্বিগ্ন। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবেক এম পি, প্রয়াত জামাত নেতা মুফতি আব্দুস সাত্তারের নাতনী জামাই। বায়েজিদ নামে-বেনামে প্রায় ২০ টি মোবাইল সিম ব্যবহার করেন। তাকে কখনই মোবাইল ফোনে পাওয়া যায় না। তার কারন হিসেবে তার এক সহকর্মী নাম না বলা শর্তে জানান, তিনি তার প্রয়োজনেই সিম গুলো ব্যবহার করেন। তিনি কথা শেষ করার সাথে সাথেই উক্ত নম্বরগুলো বন্ধ করে দেন। আবার নিজের প্রয়োজনে অন করে যোগাযোগ করেন। ইতোমধ্যে ১৩ টি সিমের নম্বর এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। (০১৯০৬-১৪৭৪১৫, ০১৫৩১-৫৩২৫৪০, ০১৭৪৭-২১১৩৪০, ০১৭২৮-২৭৯৪৬৪, ০১৮৫৩ -৬৯৯৩৮৭, ০১৭৫৭-৩১৪৪৭৭, ০১৯১৭-৭২৩৫৫৪, ০১৭২৩-৯০২৬০৩, ০১৯৮৬-৩৩৮০৭৮, ০১৫৫৮ -১৫৪৫৬৫, ০১৭৫২-২০১৭৬৩, ০১৬২৩-২৮০১৭, ০১৯২০-৬৪৯৯৮২) কেবল তাই নয় সবার জাতীয় পরিচয়পত্র একটি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বায়েজিদের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে ২টি। প্রথমটিতে তার নাম আঃ,স, ম, বায়েজীদ-উল-হাসান, পিতা আ,ক,ম শফিকুল ইসলাম, মাতা- দিলওয়ারা বেগম, জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৭৮। গ্রামের বাড়ী মোড়লগঞ্জ, বাগেরহাট। দ্বিতীয়টিতে নাম হলো ড,এ,এস, এম বায়েজীদ-উল- হাসান, পিতা-এ কে এম শফিকুল ইসলাম, মাতার নাম দিলারা বেগম, এই আইডিতে জন্ম তারিখ কমিয়ে করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮১ ইং। যা আগেরটির চেয়ে ৩ বছরের কম। এখানে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে উত্তরা,ঢাকার। এই প্রতিবেদকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ২ টি কপিই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ঠিকানা এক জায়গা আর সার্টিফিকেট বিক্রির কারখানার ঠিকানা হলো, বাড়ী নং ৩৭, রোড নং ০৮, সেক্টর ১২, উত্তরা। টাকা দিলেই মূহুর্তের মধ্যে আপলোড হয়ে যায় শিক্ষার্থীর নাম ঠিকানা। আর এই ওয়েবসাইট দেখভাল করেন চেয়ারম্যান নিজেই। জানা গেছে, বায়েজীদ প্রায় ৭হাজার ভূয়া সার্টিফিকেট বিক্রি করেছে। প্রতি সার্টিফিকেটে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকাা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই করোনা সংকটেও তিনি প্রায় শতাধিক সার্টিফিকেট বানিজ্য করেছেন। তার প্রায় ২৫টির মতো ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে। তিনি সার্টিফিকেট বিক্রি করেই শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৫ টি মামলা। এর মধ্যে ৩টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ শায়খ মোহাম্মদ বায়েজীদ উল হাসানকে একাধিক বার মোবাইল ফোনে কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার উত্তরার অফিসে গিয়েও তার সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব হয়নি। দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা সংক্রান্ত ইউজিসির গণবিজ্ঞপ্তি গত বছরের ১১জুন (স্মারক নং- বিমক/ বে:বি:/২৯০(৩)/৯৫) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লাতে শিক্ষার্থী ভর্তি না হতে পত্রিকায় একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা কর্র্তৃক সরকার ও কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ ব্যাতিরেকে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। উল্লেখ্য, দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা ০৪/১২/১৯৯৫ তারিখে সরকার কর্তৃক স্থাপন ও পরিচালনার সাময়িক অনুমতি পায়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন যথাযথভা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »