শিরোনামঃ
কার্পাসডাঙ্গা বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ মোটরসাইকেল আরোহীর জরিমানা জুয়া খেলে নিঃস্ব সুরিয়াবোর মোক্তারের প্রতারনার ফাঁদ কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের গণসংযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার নরসিংদীতে ৩৫০ পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পিরা ফুলপুরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন মায়ের শরীরে সন্তানের দেওয়া আগুনে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে (মা) শার্শায় ৫ দফা দাবিতে ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টটিভদের মানববন্ধন ডিমলায় শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে মত বিনিময় সভা নরসিংদীতে মাধবদীতে আগুনে ভস্মীভূত দুই কারখানা-ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
হত্যার শিকার বোন,বিচারের জন্য জাবি শিক্ষার্থীর কান্না

হত্যার শিকার বোন,বিচারের জন্য জাবি শিক্ষার্থীর কান্না


জাবি প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার নাবালিকা স্ত্রী হত্যা ঘটনার নাড়া দিয়েছে দেশবাসির বিবেক। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পসসহ সব মহলে। খুনিদের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার জন্য জড়িত  সকলের বিচার  চেয়েছেন মৃত ফাতেমার হতভাগা ভাই ইয়াসির হামিদ। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের(জাবি) আইন ও বিচার বিভাগের ৪১ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তিনি অত্যন্ত দুঃখ এবং ক্ষোভ নিয়ে ফেসবুকে লেখেন, আমার ছোট বোন ফাতেমা আক্তার কে (১৬) গত ২৬/০৮/২০১৯ তারিখে আঃ মমিন ( আনুমানিক ২২ বছর ) পিতাঃ সুরাহক শেখ, গ্রামঃ দিঘলকান্দি, পোঃ হলদিয়া থানাঃ সাঘাটা, জেলা গাইবান্ধা পালিয়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে জানার পর আমি বহু খোজাখুজি করি এবং না পেয়ে সাঘাটা থানায় মামলা করতে যাই।
প্রায় এক সপ্তাহ ঘোড়াঘুরি করলেও পুলিশ অদৃশ্য কারনে মামলা নেয় নি। বাধ্য হয়ে ০৮/০৯/১৯ তারিখে থানায় বোন নিখোজ হয়েছে মর্মে একটা সাধারণ ডায়েরি করি। (জিডি নংঃ ৩১৪ তারিখ: ০৮/০৯/২০১৯)। এর বেশ কিছুদিন পর ২৪/০৯/ ২০১৯ তারিখে আমার বোনকে আঃ মনিন তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে এবং কোর্ট ম্যারিজ করেছে বলে জানায়। আমি তখন বলেছিলাম যেহেতু মেয়ের বয়স ১৬ বছর তাই কোর্ট ম্যারিজে বাধ্যবাধকতা আছে। অতপর আমি ফ্যামিলির মান সম্মানের কথা ভেবে স্থানীয় ভাবে বিয়ে দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা কোন ভাবেই এটা মানতে রাজি হয়নি, বরং আমার বোনের সাথে যাতে আমরা কোন যোগাযোগ করতে না পারি তার সব ব্যবস্থা করে। ছেলের বাড়ি আমাদের গ্রামের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় তারপরেও আমার ভাবি, বড় বোনকে দ্বারা যতটুকু সম্ভব খোজ খবর নেই। গত ১০/১১/১৯ থেকে আব্বার ফোনে কয়েক মেসেজ দেয় আমার ভিক্টিম ছোট বোন এবং তার নানা শারিরিক মানসিক নির্যাতনের কথা বলে। আব্বা মোবাইল সম্পর্কে কিছু বোঝে না। তাই মেসেজ ও দেখে নাই। এরপর ১২/১১/১৯ তারিখে ভাই – ভাবি কে লুকিয়ে কল দিয়ে কান্না কাটি করে এবং বলে, “আমাকে গত তিন দিন থেকে খাবার দিচ্ছে না, আমাকে তোরা নিয়ে যা। ওরা আমাকে মনে হয় মেরে ফেলবে। এরপর আমার বড় দুই বোন, ভাবি, ভাই তাকে নিতে যায়। তাদের সামনেই তাকে (ভিক্টিমকে) মমিন গালিগালজ করে এবং তাকে চড়ায় ও তাকে না পাঠিয়েই সবাইকে ফেরত পাঠায়। উল্লেখ্য আমার বড় বোন ভিক্টিম ছোট বোনকে হাত ধরে নিয়ে আসতে চাইলে, হাত থেকে কেড়ে নেয়। এরপর ঐদিন রাতেই (১২/১১/১৯) তাকে শারিরিকভাবে নির্যাতন করে একপর্যায়ে মেরে ফেলে। এসময় পাশের বাসার একজন তাদের বাড়িতে রাত ১১ টার দিকে ঢুকতে চাইলে তারা ঢুকতে দেয় নি। ঘটনা ধামাচাপা দেবার জন্য তার (ভিক্টিমের) ওড়না পেচিয়ে ঘরের ধর্নার সাথে লটকিয়ে রাখে। এখানে উল্লেখ্য, ঝুলন্ত অবস্থায় তার (ভিক্টিমের) পা এমনভাবে মাটির সাথে লেগে ছিলো যেখান থেকে ফাসে মরা কোন ভাবেই সম্ভব না। ধর্নার থেকে মাটির যে উচ্চতা ভিক্টিম দাড়ালে ধর্না মাথার সাথে লাগত। সেখানে ফাসের ওরনার কারনে দুরত্ত্বটা এতটাই কম যে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফাস নিয়ে মৃত্যু ঘটানো সম্ভব না। এবং যখন তাকে হত্যা করে তখন মাটিতে ধ্বস্তাধস্তি করায় মাটি কয়েক জায়গায় উঁচুনিচু হয়ে গেছে। পাশের র‌্যাক ভেংগে গেছে। পোস্ট মর্টেম এর আগে আমিই যা দেখেছি তা হল-ওর বাম পাশের পুরা চোয়াল আঘাতে জখম ছিল, চোখ ফুলে পুজ বের হচ্ছিলো, মাথার চুল ছেরা ছিল এবং পুরা গলায় প্রায় দুই ইঞ্চি পুরু কালো বিভতস জখম ছিল। গলার পিছনের হার ভাঙ্গা ছিলো। আর শরীরের অন্য কোন অংশ আমি দেখিনি। এখানে উল্লেখ্য, মেরে ফেলার পর তারা বাড়ি থেকে গরু বাছুর যা সাথে নিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে বাড়ি থেকে বের পালিয়ে যায় এবং একটু দুরে আত্মীয়ের বাড়ি আশ্রয় নেয়। অতপর তাদের পরে দুইজনকে রাতেই সাঘাটা থানায় পাঠায়। তারা থানায় সেটেলমেন্ট করে। সকালে থানায় আমি ফোন দিলে তদন্ত অফিসার অনিমেস স্যার সকাল ১০ টার দিকে ঘটনা স্থলে যায় এবং যেয়েই লাশ কিভাবে আছে, কি কি আলামত পাওয়া গেল এগুলোর বাচবিচার না করেই আমাকে বলে আপনার বোন গলায় ফাস নিয়ে মরেছে। আমার কোন কথাই তিনি শোনেন নি। থানায় এসে বিকেলে আমি হত্যা মামলা করতে চাইলেও ওসি মামলা নেয় নি। লাস্টে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নেয়। তাও আবার এজাহার কিছুটা পরিবর্তন করে। সুরতহালের রিপোর্টে আব্বার সাক্ষর নেয়ার সময় সে ভিক্টিমের চোখ, কান, নাক, এবং গালের জখমের স্থান, চুল সব স্বাভাবিক দেখায়। আমি জানতে চাইলে তদন্ত অফিসার রাগ করেন।
অতঃপর ময়না তদন্ত গতকাল ১৪/১১/১৯ শেষে ছোট বোনকে বাদ আসর দাফন করি। আজ সকালে তদন্ত অফিসার অনিমেস স্যারকে কল দেই এবং বলি যে আসামীকে গ্রেফতার করবেন না? কখন করবেন? উনি কোন কথার পাত্তা না দিয়ে আমাকে বলেছেন যে আসামীর খোজ খবর নিয়ে আপনারা আমাকে জানান। উনারা বাড়ি নেই। দুর্গম এলাকা যাওয়া যায় না। ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ আসামি ধরার বিন্দু মাত্র চেস্টা আমি তার ভিতরে দেখি নি। অবস্থা এমন যে, এভাবে চলতে থাকলে আমার বোনের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত, এবং সুবিচার কখনোই পাবো না। কারন এরকম আরো চারটা এর আগে হত্যা হয়েছিল। যার কোন বিচার হয়নি। ধামাচাপা পরেছে শুধুমাত্র থানা, স্থানীয় দালালদের কারনে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2020 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »