শিরোনামঃ
সোনারগাঁ আনন্দবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ স্থায়ী সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এমপি খোকা  নরসিংদীতে শিবপুরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ ৫ সন্তানের বাবাকে পেতে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন প্রেমিকার! সাংবাদিক মাসুদের বিরুদ্ধে সেই দুর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের জিডি নরসিংদীতে আখের চাহিদা ও দাম বেশি হওযায আখ চাষিদের মুখে সাফল্যের হাসি ফুটেছে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন শিশু সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে কোটি টাকার বাণিজ্য ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ

সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী এক ডজন প্রার্থী


ফটো-সংগৃহীত

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) নিজস্ব প্রতিবেদক: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার ১নং বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দৌড়ঝাড় চলছে চোখে পড়ার মত। এতে আওয়ামীলীগ দলীয় নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী প্রায় এক ডজন এবং একজন সতন্ত্র নির্বাচন করবেন ঘোষনা দিলেও মূলত জাতীয় পার্টি ঘরনার তিনি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিএনপি জামায়াতের কোন প্রার্থী মাঠে নেই। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীগণ বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, পোষ্টার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ছাড়াও হাট-বাজার সভা-সমিতি, ধর্মীয় সভা, গানের আসর, উরশ ইত্যাদি সভায় অংশ নিয়ে যার যার মত নিজের প্রার্থীতার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে । ৯টি ওয়ার্ডের মোট ভোটর প্রায় ষোল হাজার। সাটুরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বরাইদ ইউনিয়নটি মূলত ধলেশ্বরী নদী দ্বারা বিভাজ্য। অতীতে নদীর উভয় পাশে শক্তিশালী প্রার্থী থাকলেও এবার পূর্বা লে ১০জন এবং পশ্চিমা লে মাত্র দু’জন। কৃষি ও তাঁত শিল্প নির্ভর এ ইউনিয়নের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দূর্গম।

সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়ন থেকে পার্শ বর্তী দৌলতপুর উপজেলা এবং নাগরপুর উপজেলা এলাকায় যাতায়াতের জন্য গোপালপুর এবং বরাইদ প্রান্তে ধলেশ্বরী নদীতে দুটি সেতু নির্মানের দাবী পূরন করতে না পাড়ায় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের চরম ব্যার্থতা বলে প্রতিয়মান। যাহা স্থানীয় নির্বাচন হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে আগামীতে এমনটাই জনগনের ধারণা।

আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী হতে চান বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ, প্রাক্তন চেয়ারম্যান মরহুম আবুল হোসেনের বড় ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ মোশারফ হোসেন, গোপালপুর বাজার বণিত সমিতির সভাপতি মোঃ আল মামুন আজাদ, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ সাজ্জাদুর রহমান খান, সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল হাই, মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জুলফিকার রহমান ভ‚ট্টো,

গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ আপেল মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ রেলওয়ের (অবঃ) কর্মকর্তা মোঃ মাযহারুল ইসলাম লাল মিয়া, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বরাইদ ফয়জুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ধূল্যা বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান এবং পাতিলাপাড়া এম.বি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ সেলিম হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন সাবেক তিন বারের চেয়ারম্যান, ব্যাপক ভাবে জন প্রিয়তা থাকলেও তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানা গেছে।

উল্লেখিত ব্যাক্তিদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন মাষ্টার এবং শাহ জাহান মাষ্টার মৌখিক ভাবে কেবল ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রচারণা ভোটারদের নজরে আসেনি। জুলফিকার রহমান এবং মাযহারুল ইসলাম ও সাজ্জাদুর রহমানের প্রচারনায় দুর্বল, বার বার নির্বাচনে হেরে হতাশ তিনি। এ দিকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (উরফে আলম ডা.) বর্তমানে একটি ধর্ষন মামলায় কারান্তরিন, এছাড়াও বির্তকিত অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী আলম ডা. অতিতেও জালিয়াতি, প্রতারনা মামলায় জেল খাটার ফলে তার জন প্রিয়তা শূন্যের কোঠায়।

সাবেক এক সচিবের নিকটাতিয় হিসেবে পরিচিতি থাকলেও সেলিম হোসেনে অবস্থানও দূর্বল বলে ভোটারদের ধারণা। তবে আপেল মাহমুদ চৌধুরীর প্রচারণা থাকলেও বয়সের ভারিক্কি নেই বলে মনে করেন অভিবাবকরা। বীর মুক্তিযোদ্ধা বয়োবৃদ্ধ আব্দুল হাই বর্তমানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং সরকারী চাকুরী করার কারণে রাজনৈতিক অনুপস্থিতির ফলে তার দলীয় মনোনয়নে বাধা রয়েছে বলে মনে করেন অনেক দলীয় নেতা কর্মী।

তৃনমূল আওয়ামীলীগের সাধারণ ভোটার এবং নেতা কর্মীদের মন্তব্য দলীয় মনোনয়ন পাওয়া কিংবা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বতমানে তিন জন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের একজন প্রবীন সদস্য মোঃ আহসান উল্লাহ বলেন, আগামী নির্বাচন উপলক্ষে বর্তমানে বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। আর কোন ভ‚ল সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতা কর্মীদের হতাশ করতে চাই না।

আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জেলা, উপজেলা নেতৃবৃন্দের সাথে বিষয়টি নিয়ে বসা হবে। ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি নয়ন আলী বেপারী বলেন, মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয় যাকে মনোনয়ন দেবেন আমরা তার পক্ষে আছি। মোঃ মোশারফ হোসেন সাভার গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের, তার ভাই সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি আওয়ামীলীগের কোন পদে নেই তবে ভোটারদের মধ্যে শক্ত অবস্থান রয়েছে। এ দিকে সাটুরিয়া উপজেলার অন্যতম বৃহত হাট-বাজার হিসেবে পরিচিত গোপালপুর বাজার বণিত সমিতির দীর্ঘদিন যাবৎ সভাপতির দায়িত্ব পালন করা প্রাক্তন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা মোঃ আল মামুন আজাদ ব্যাপক ভাবে মাঠে নেমেছে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে সে ভোটারদের দৃষ্টি আর্কষন করে দোয়া চেয়ে বেড়াচ্ছে।

রৌহা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মৃত নিজাম উদ্দিনের কনিষ্ট পুত্র হিসেবে সে পাচ্ছে আলাদা মর্যাদা। ইউনিয়ন ব্যাপী অসংখ্য আতœীয় স্বজন গুনগ্রাহী থাকায় দ্রত গতিতে তার পক্ষে আগাম জনমত পাল্টে দিচ্ছে। ব্যাক্তি জীবনে সৎ, বিনয়ী আল মামুন আজাদ। সমাজ সেবায় অবদান রাখছে তরুন বয়স থেকেই।

চতুর্থমুখী চাপকে উপেক্ষা করে মামুন গোপালপুর বাজারকে সুশৃংঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছে। ছনকা হাট-বাজার, সাভার হাট-বাজার, বরাইদ বাজার, পাতিলাপাড়া চৌরাস্তা বাজারসহ সকল ব্যবসায়ী পেশাজীবী, কৃষক, ছাত্র সকল শ্রেণীর পেশার মানুষের সাথে ভাল আচরনের জন্য সূ-পরিচিত। মামুন তার বড় ভাই ব্যারিষ্টার ড. শামীম আলম,যিনি সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্যানবেরা শাখা ও সহ-সভাপতি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন অস্ট্রেলিয়া শাখার দায়িত্ব পালন করেন তার সার্বিক নির্দেশনায় জনসেবায় সম্পৃক্ত। দলীয় সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে সে আশাবাদী।

এ দিকে বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ হারুন অর রশিদ পুনঃ দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া প্রচার, প্রচারনা নিয়মিতই চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য নেতা কর্মীকে হারুন অর রশীদ ধরে রাখতে পারেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেলকো পীর সাহেব বলেন, বিতর্ক মুক্ত নতুন প্রার্থী হিসেবে দেখতে আল মামুন ভালই হবে বরাইদ ইউনিয়নবাসীর জন্য।

৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হাসেম বলেন, বিতর্কমুক্ত যোগ্য ছেলে মামুন, আমরা বর্তমান চেয়ারম্যান পরিবর্তন চাই। বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, বিগত নির্বাচনে ভ‚ল ব্যক্তিকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছিল। ৯টা ওয়ার্ডকে সমান নজরে দেখেনি হারুন চেয়ারম্যান, সরকারী ত্রান বিতরনে নানা রকম দূর্ণীতি, সরকারী নানা রকম ভাতা বিতরণে অনিয়ম, টাকা নিয়ে সরকারী ঘর বিতরণ, এবং নারী কেলেংকারীতে জড়িয়েছে সে।

বিষয়গুলো পত্র পত্রিকায় আসছে। ফলে দলের সুনাম নষ্ট হয়েছে। আবার কেউ কেউ ধর্ষন, জালিয়াতি, ভ‚মি রেকর্ডে দালালি করেও দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছে। তাই আমরা আগামীতে ভাল মানুষ হিসেবে ব্যারিষ্টার শামীমের ভাই আল মামুনকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।

লাইক ও শেয়ার করে পাশে থাকুন..........
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »