রূপগঞ্জ ফ্লাইওভারের সুবিধা বঞ্চিত জনসাধারণ 

রূপগঞ্জ ফ্লাইওভারের সুবিধা বঞ্চিত জনসাধারণ 


ফটো-মোঃ রিপন মিয়া

মোঃ রিপন মিয়া, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানজট ভোগান্তি নিরসনে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় ৩৫৩.৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে চার লেনবিশিষ্ট তিনতলা ভুলতা ফ্লাইওভার।এটি দেশের উপজেলা পর্যায়ে প্রথম এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্ববৃহৎ (মেগা) প্রকল্প।

যার অবস্থান মদনপুর-কাঞ্চন ব্রিজ-জয়দেবপুর এশিয়ান বাইপাস মহাসড়কের গোলাকান্দাইল-ভুলতা সংযোগস্থলে। বর্তমানে ফুটপাত ও মহাসড়কের লেন দখল করে আছে ভাসমান ব্যবসায়ী ও পরিবহণ চাঁদাবাজ চক্র। অন্যদিকে ফ্লাইওভারের উপরাংশে যানজট না থাকলেও ল্যাম্পপোস্ট অকেজোঁ থাকায় রাতের বেলায় থাকে অন্ধকার। ফলে বাড়ছে চুরি,ছিনতাই, এমনকি ডাকাতির ঘটনা।

এসব নানা কারনে যানবাহন ও যাত্রীসাধারনের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচ অংশে দখলদারদের দৌড়াতেœ্য ভুলতা বাজার সিএনজি স্টেশন এলাকায় প্রতিদিন হাজারের অধিক ব্যটারী চালিত রিক্সা , ইজিবাইক ও সিএনজি যাত্রীর জন্য অপেক্ষমাণ থাকে।

এসব যানবাহন কোনটির বৈধতা না থাকলেও সংশ্লিষ্ট চাঁদাবাজ চক্রকে নির্ধারিত হারে চাঁদা দিয়ে মহাসড়কে অবাধে চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, পরিবহণ শ্রমিকলীগ নেতা ও পুলিশদের যোগসাজসেই প্রকাশ্যে এমন অনিয়ম ঘটাছে। তাই রোধ করা যাচ্ছে না এসব ভোগান্তি। এতে ফ্লাইওভারের সুফল বঞ্চিত হচ্ছেন জনসাধারন।

একইভাবে, গোলাকান্দাইল মোড়ে রয়েছে ফ্লাইওভারের নিচ অংশে ফিটনেসবিহীন প্রাইভেটকার, বিআরটিসি বাস কাউন্টার, সিএনজিসহ নানা অবৈধ যানের স্টেশন ও রিক্সাচালকদের অবাধে অবস্থান। আর যাত্রী পেতে নিরাপদে অবস্থান করতে গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আল আমিনের সহযোগী পরিচয়দানকারী রিক্সা চালক সমিতির সভাপতি হিসেবে টাকা তুলেন জামাল মিয়াসহ একাধিক লোকজন।

ফুটপাতের ভাসমান ফলের দোকান থেকে একই পরিচয়ে মিল্লাত, রুবেল,কুরবান নিয়মিত টাকা তুলেন।

তবে যুবলীগ নেতা আল আমিন বলেন, আওয়ামী যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করে দলের বদনাম করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন প্রকার চাঁদাবাজিতে তার লোক জড়িত নয় বলে দাবী করেন তিনি। কোন পুলিশ সদস্য এসব কাজে যুক্ত নয় দাবী করে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাজিমউদ্দিন মজুমদার বলেন ফুটপাত ও লেন দখল উচ্ছেদে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

স্থানীয় বিভিন্ন মহলের নানা অযুহাতে পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবু এ বিষয়ে উর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছি। তবে আমাদের দায়িত্ব হলো আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা। অভিযোগ রয়েছে,ভুলতার মর্ত্তুজাবাদ এলাকার বাবু মিয়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় চাঁদা তুলেন ভুলতা সিএনজি স্টেশন এলাকায়। তার রয়েছে আরো কয়েকজন সদস্য।

এছাড়াও এসব সিএনজি থেকে মাসে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা তুলে নেয় নেওয়াজ, রফিক নামের পরিবহন শ্রমিক। একইভাবে মহাসড়কে চলাচলরত বাস থামিয়ে পরিবহণ সমিতির নামে শ্রমিকলীগ নেতা রতনের নির্দেশে তার অধীনে থাকা কর্মী কাউসার, শফিক নিয়মিত চাঁদা তুলে। তবে পরিবহণ শ্রমিকলীগ নেতা রতন মিয়া দাবী করেন, তার কোন লোক এসব কাজে জড়িত নয়।

তারা শুধু সমিতির অভ্যন্তরীন গাড়ী নিয়ন্ত্রণ করেন। নিয়মিত চাঁদা তুলেন এমন লোকজনের দাবী, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দিতেই কিছু খরচ নিয়ে থাকেন। বাজার পরিচ্ছন্ন রাখতে খরচ হয়। কিছু পুলিশ ও নেতা কর্মীদেরও দিতে হয়। তাই নামে মাত্র খরচ নেই চাঁদা নয়। ভাসমান হরেকপন্য বিক্রেতা শাহাবুদ্দিন বলেন, কিছু চিহ্নিত লোককে দৈনিক ২ শ টাকা দিয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পসরা বসাই।

মাঝে মাঝে লাঠিসোটা নিয়ে স্যারে গ (পুলিশ) আসতে দেখলেই সাইটে চলে যাই। যারা জড়িত তাদের নাম বললে এখানে আর ব্যবসা করতে দিবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাসমান ব্যবসায়ী জানান, ভুলতা গাউছিয়া এলাকার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা নিরাপত্তার দায়িত্বরত কনস্টেবলরা দিন দুপুরে ভাসমান দোকান থেকে দৈনিক ২ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা তুলতে দেখেছি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোলাকান্দাইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক(টিআই) মনির হোসেন বলেন, ফুটপাত ও সড়কের লেন দখল করে পার্কিং ও দখলের ফলে আমাদের যানজট নিয়ন্ত্রনে সমস্যা হয়।

এসব বিষয়ে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে পরিবহণ কিংবা ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ট্রাফিক বিভাগের কোন সদস্য জড়িত নয়। সমস্যার এখানেই শেষ নয়। ল্যাম্পপোস্ট নষ্ট থাকায় রাতের অন্ধকারে ভুতুরে হয়ে ওঠে ফ্লাইওভারটি। ফলে এর উপরাংশে ঘটে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি ঘটনা।

তাতে দুশ্চিন্তা বেড়েছে পুলিশ সদস্যদের। ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসাইন বলেন, সম্প্রতি ফ্লাইওভার এলাকায় ল্যাম্পপোস্ট অচল থাকায় রাতের বেলায় ডাকাতি ও ছিনতাইর ঘটনার অভিযোগ পাচ্ছি। এমন পৃথক ঘটনায় ৭জন ডাকাত এবং ৩ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার আদালতে পাঠিয়েছি। সুত্র জানায়, ফ্লাইওভারের ওপর ছিনতাই চক্র গাড়ি পার্কিং করে ছিনতাইয়ের জন্য অপেক্ষা করে।

মাদক সেবন করার নিরাপদ স্থান এ ফ্লাইওভার। মুড়াপাড়া ওয়েব আইটি একাডেমির পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, লাইট ছাড়া ফ্লাইওভার অনিরাপদ। পৃথিবীর কোনো দেশে ফ্লাইওভার অন্ধকার নেই। কিন্তু ভুলতা ফ্লাইওভার ভুতুরে হয়ে আছে। তাই আলো ফেরানোই হতে পারে একমাত্র সমাধান।

এ ব্যাপারে ভুলতা ফ্লাইওভারের প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ফ্লাইওভারের মাঝে মাঝে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল না দিতে পারায় নারায়ণগঞ্জ-২ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি লাইনটি কেটে দেয়। পরিশোধ করলে লাইন সংযোগ দেয়। মাঝে মাঝে এমন সমস্যা হয়।

রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি, কলামিস্ট লায়ন মীর আব্দুল আলীম বলেন, ‘ভুলতা ফ্লাইওভারটি রূপগঞ্জবাসীর জন্য একটি স্বপ্নের ফ্লাইওভার। আশা করেছিলাম ফ্লাইওভারটি চালু হলে আমরা যানজট মুক্ত থাকবো। বাস্তবতায় দখলদারদের জন্য পুরোপুরি সুফল পাচ্ছি না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »