মেয়েদের করা মামলায় সৎমা আঞ্জু কাপুর গ্রেপ্তার

মেয়েদের করা মামলায় সৎমা আঞ্জু কাপুর গ্রেপ্তার


ফটো-সংগৃহীত

গর্জন ডেস্কঃ রাজধানীর গুলশানে দুই মেয়েকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় করা বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মামলায় সৎমা আঞ্জু কাপুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আঞ্জু কাপুর অবসরপ্রাপ্ত পাইলট মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দ্বিতীয় স্ত্রী। মাস দেড়েক আগে মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের প্রথম পক্ষের সন্তান মুশফিকা মুস্তাফা মামলা করেন আঞ্জু কাপুরের বিরুদ্ধে। মুশফিকা মুস্তাফা অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর আঞ্জু কাপুর সিটি ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা তুলে নেন। তাঁর বাবার মৃত্যুর খবর ব্যাংকের কাছে চেপে যান তিনি।

সিআইডির (ঢাকা মেট্রো) অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শেখ ওমর ফারুক আঞ্জু কাপুরের গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার ভোরে তাঁকে গুলশানে মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের রেখে যাওয়া বাসা থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডি আজই আঞ্জু কাপুরকে আদালতে উপস্থাপন করবে। তারা পাঁচ দিন রিমান্ডের আবেদন জানাবে বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আঞ্জু কাপুর ও মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের প্রথম পক্ষের দুই মেয়ের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে অক্টোবরের শেষ ভাগে। দুই বোন গুলশান–২–এ ১০ কাঠা জমির ওপর তোলা বাড়ির সামনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন আঞ্জু কাপুর তাঁদের ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেন না।

এ নিয়ে পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে খবর প্রচারিত হলে গত ২৬ অক্টোবর স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

সেই আদেশে অবিলম্বে দুই বোনের বাড়িতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই রাতেই দুই বোন মুশফিকা ও মোবাশ্বেরাকে বাড়িতে উঠিয়ে দেয় পুলিশ। পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশে দুই বোনের নিরাপত্তায় ওই বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিকে আঞ্জু কাপুরের আইনজীবী মো. ওয়াজিউল্লাহ মঙ্গলবার বলেন, তিনি গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুনেছেন। আদালতে যাবেন।

মো. ওয়াজিউল্লাহ মৃত পাইলট মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের বাল্যবন্ধু। তিনি জানান, ২০০৫ সালে তাঁর বন্ধুর সঙ্গে প্রথম স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়। তাঁর উপস্থিতিতে ২০১৩ সালে আঞ্জু কাপুরকে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে করেন মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ।

২০১৯ সালে একবার মেয়েরা বাসায় এসে আঞ্জু কাপুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিরক্ত হয়ে তাঁর বন্ধু গুলশান থানায় জিডি করেছিলেন সে সময়। মেয়েরা খুব একটা খোঁজখবরও নিতেন না। বিষয়টা নিয়ে তাঁর বন্ধু মেয়েদের ওপর বিরক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশে মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের বেশ কয়েকজন ভাইবোন থাকলেও এক ভাই সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ ছাড়া এই মুহূর্তে কেউ দেশে নেই।

গুলশান থানা জানিয়েছে, মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ ও তাঁর মেয়ে দুজনেই এর আগে জিডি করেছিলেন। সুত্র: প্রথম আলো

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »