মুজিব শতবর্ষে পেলোনা সরকারি উপহার দিনমজুর বৃদ্ধ

মুজিব শতবর্ষে পেলোনা সরকারি উপহার দিনমজুর বৃদ্ধ মগবুল হোসেনের অভিযোগ 


ফটো-তপু রায়হান রাব্বি

তপু রায়হান রাব্বি, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ মুজিব শতবর্ষে অনেকেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার “স্বপ্নের নীড়” ঘর পেলেও ঘর মিললোনা অসহায় হতদরিদ্র দিনমজুর বৃদ্ধ মগবুল হোসেন এর ভাগ্যে। এমনই নানান কথার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে মানুষের মুখে মুখে।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১১নং রাধাকানাই ইউনিয়ন এর ৯নং ওয়ার্ডের পলাশতলী নেনজিরপার গ্রামের মৃত সেকান্দর আলীর ছেলে মগবুল হোসেন(৭৫) এর থাকার ঘর দেখলে দু চোখে পানি ছাড়া আর কিছুই আসবে না দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সকল দলীয় নেতাকর্মীদের।

এমনই কথা বলেন এলাকার সচেতন নাগরিক। ছোটবেলা শুনতাম দাদু, নানু সহ মায়ের কাছে মাটির ঘর ও অসহায় মানুষের কষ্টের দিনের গল্প। ওরা কিভাবে থাকত? আজ তা দেখতে পেলাম দুচোখে এই অসহায় হতদরিদ্র বৃদ্ধার বাড়িতে। মাটি দিয়ে ভাঙ্গা দেওয়াল, তার ফাঁকে ফাঁকে কলা ও তালপাতা, পলিথিন, বস্তা ছেঁড়া, খড় সহ অনেক কিছু দিয়ে বাহির থেকে ঘরের ভেতর কনকনে শীতের বাতাস আটকানোর পদ্ধতি।

কথায় আছে শীতকালে থরথর করে কাঁপে আমি। বর্ষাকালে বৃষ্টির হলে টাইটোবলা গুছিয়ে ঘরের এক কোণে বসি। এমন দুঃখ আমি কাহাকে বলি। কেউ তো আর শুনেনা। এ বিষয়ে মগবুল তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সংবাদকর্মীরা তপু রায়হান রাব্বি কে বলেন, আমি কি বলবো দুঃখের কথা? আপনারাই তো দেখতে পাচ্ছেন। আমার দুই ছেলে বিয়ে করে বাড়ি থেকে চলে গেছে অনেক বছর আগেই।

শুধু পিতার রেখে যাওয়া এই বিটা টাইয় আছে আমার। আর সেখানেই খড়-পাতা জোড়াতালি মাধ্যমে কিছু মত দিন কাটাচ্ছি। যদি এক দমকা হাওয়া আসে আমার এই থাকার শেষ সম্বল টুকু উড়ে যাবে। যেদিন আমার স্বামী কাজ পাই, সেই দিনই আনতে পারে সদাই। আর যেদিন কাজ পারি না সেদিন জ্বলেনা চুলাই আগুন। এই ছোট্ট শিশু টাকে নিয়ে না খেয়ে ঘুমাতে হয়। উনারা দুচোখে পানি নিয়ে আরও বলেন, কত চেয়ারম্যান, মেম্বারের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছি কিন্তু সরকারের দেওয়া কিছুই জুটেনি কপালে।

সরকারি দেওয়া জিনিস তো জোটে তাদের কপালে যারা চা-পান খাওয়াতে পারে। আমাদের তো সেই সামর্থ্য নেই বলে ছেঁড়া কাপড়ের আঁচল দিয়ে দু চোখের পানি মুছলেন। ফুলবাড়িয়ার এমপ্যাথি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাইফুল ইসলাম (সাইফ) সাংবাদিক রাব্বিকে বলেন, আমি এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মেম্বার কে অনেক ভারী বলেছি, কিন্তু ওরা বারবার একই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আমরা কিছু পেলে তো, কিছু দেবো ? আর এখন ওনাকে দেবার মতো আমাদের হাতে সরকারি বরাদ্দ কিছু নেই।

আসলে পরে চেষ্টা করবো। এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, উনি যদি সরকারি বরাদ্দকৃত ঘর না পায়। তাহলে কে পাবে সরকারি বরাদ্দকৃত ঘর? জয় হোক মানবতার, গরীব, অসহায় মানুষ তার হাসি হাসুক, এইটাই আমাদের কাম্য।। এই শীতে অনেক কষ্ট করে রাত কাটাচ্ছে। দিন আনে দিন খায়।

এমন অবস্থায় নতুন ঘর করার সামর্থ্যটুকু নাই। আমরা সকলেই সরকারী মহলের সু-দৃষ্টি আকর্ষন করছি, একটা ঘরের ব্যাবস্থা করে দেওয়ার জন্য। ফোঁটক না সরকারি বরাদ্দকৃত আর একটি উপহার পেয়ে এই পরিবারের মুখে হাসি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »