মওদুদ আহমদকে শেষ বিদায় জানালো রাজনৈতিক দল,

মওদুদ আহমদকে শেষ বিদায় জানালো রাজনৈতিক দল, আইনজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ।


ফটো-সংগৃহীত

গর্জন ডেস্কঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদের কফিনে ‍পুস্পস্তবক অর্পন করে শেষ বিদায় জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আইনজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন ও নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনটি আলাদা অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ৯টায় থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এক ঘন্টা শ্রদ্ধা নিবেদনের এই অনুষ্ঠানে বিএনপি, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর), গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাগপা, বাংলাদেশ ন্যাপ, জাসাস, মুক্তিযোদ্ধা দল, ড্যাব, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পমাল্য অর্পন করে ৮১ বছর বয়েসী এই রাজনীতিকে শেষ বিদায় জানায়।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম, তৈমুর আলম খন্দকার, অধ্যাপক মামুন আহমেদ, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শামীমুর রহমান শামীম, আবেদ রাজা, কাজী আবুল বাশার, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, নিপুণ রায় চৌধুরী, ছাত্র দলের ফজলুল রহমান খোকন, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবিব লিংকন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির বেলায়েত হোসেন, গণফোরামের মোশতাক আহমেদ, জাগপার খোন্দকার লুতফর রহমান, আসাদুর রহমান আসাদ, ন্যাপের গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন সংগঠন জাতীয় পতাকা আচ্ছাদিত মওদুদ আহমদের কফিনে পুস্প স্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানায়।

স্বামীর কফিনের পাশে বসে ছিলেন শোকাগ্রস্থ মনে প্রয়াত মওদুদের ধর্মিনী হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন মরহুমের ভায়েরা তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ মওদুদ আহমদের সংগ্রামী জীবন, তিনি চলে গেছেন। তিনজন ব্যক্তি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সরকারকে সহযোগিতা করতেন তারা হলেন, ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম, মাহবুব আলম চাষী এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তারা সেই জীবনটা আমরা উপলব্ধি করতে পারবো না। তারা যেভাবে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন সাহেবকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন যা বলে শেষ করা যাবে না।”

‘আমি মনে করি, মওদুদকে সর্বদলীয়ভাবে সবাই মিলে আমাদের শেষ শ্রদ্ধা জানানো উচিত।”

মাহমাদুর রহমান মান্না বলেন, ‘‘ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি রাজনীতির মধ্যে ছিলেন, সক্রিয় ছিলেন। তার ভুমিকা সেই ছাত্র জীবন থেকে এই পর্যন্ত লাগাতার ছিলো। ব্যারিস্টার মওদুদ ওয়াজ এই ডিফরেন্স।

তিনি লেখাপড়া জানতেন, সুন্দর করে লিখতেন, আলোচনায় ভালো বলতেন, রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ছিলেন সেটা বুঝা যেতো। আমি মনে করি যে, মওদুদ সাহেবের মতো উপস্থাপনা এবং এরকম ভুমিকা নিয়ে এরকম রাজনীতিবিদ দেশের জন্য প্রয়োজন ছিলো। উনি সেই পর্যন্ত তার কাজ সম্পাদন করে্ছেন।”

‘সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে জানাজা’

 

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শ্রদ্ধার্ঘ অনুষ্ঠানের পর কফিন নিয়ে আসা হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে। সেখানে আইনজীবীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রতি শুক্রবার হাইকোর্ট মসজিদে ব্যারিস্টার মওদুদ জুম্মার নামাজ আদায় করতেন।

 

প্রথম নামাজে জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের কয়েকজন বিচারপতিগণ, মতস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী সম রেজাউল করীম, সা্বেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবদীন, বিএনপির শাহজাহান ওমর, ফজলুর রহমান, তৈমুর আলম খন্দকার, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কায়সার কামাল, নাসির উদ্দিন অসীম, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ কয়েক‘শ আইনজীবী অংশ নেন।

প্রথম নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন মুফতি আবু জাফর সালেহ।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে মওদুদ আহমদের কফিন ঢাকায় আনা হয়, কফিনের সাথে স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ ছিলেন। রাতে কিছু সময় গুলশান এভিনিউর বাসায় কফিন রাখার পর বসুন্ধরায় এভারে কেয়ার হাসপাতালের হিমঘরে তার কফিন রাখা হয়েছিলো।

 

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার, ৮১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি তাকে উন্নত চিকিতসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছিলো।

 

‘বিএনপির শেষ শ্রদ্ধা’

 

দীর্ঘদিন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে দলের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। সকাল ১১টায় কফিন নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে আসলে প্রয়াত নেতার কফিন দলীয় ঢেকে দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্‌র চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিএনপির পক্ষ থেকে কফিনের পুস্পমাল্য অর্পন করে কিছুক্ষন নিববে দাঁড়িয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

 

পরে নয়া পল্টনের সড়কে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই জানাজায় অংশ নিতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী সকাল থেকে অবস্থান নেয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অফিস থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত এই মানুষের ঢল নামে।

 

জানাজায় বিএনপির শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, শামুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আামান, আবদুস সালাম,শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মীর সরফত আলী সুপ, আমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জহির উদ্দিন স্বপন, নাজিম উদ্দিন আল, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শামীমুর রহমান শামীম, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আকরামুল হাসান, সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহ্উদ্দিন টুকু, মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ২০ দলীয় জোটের জামায়াতের মিয়া গোলাম পারোয়ার, আবদুল হালিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, এনডিপির আবু তাহের, জাগপার আসাদুর রহমান আসাদ, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী প্রমূখ নেতারা অংশ নেন।

দ্বিতীয় জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা শাহ নেসারুল হক।

 

‘মওদুদ রাজনীতির একজন কিংবদন্তী’

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি রাজনীতির একজন কিংবদন্তী ছিলেন। তিনি অনেক পরিবর্তনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন, প্রতিটি পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিলো গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। তার চলে যাওয়া শুধুমাত্র বিএনপির জন্য নয়, সমগ্র দেশের জন্য, সমগ্র জাতির জন্য অপুরনীয় শূণ্যতার সৃষ্টি করলো।”

 

‘‘ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একজন অভিভাবক ছিলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে, আমাদের দল অত্যন্ত নিজেদেরকে শূণ্য মনে করছি এবং তার অভাব অনুভব করছি। আজকে এ্ই বরণ্যে ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বশ্রেনীর মানুষ আসছে, তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামীন তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিয়ে তাকে বেহেস্ত নসিব করেন।”

 

তিনি বলেন, ‘‘ কঠিন একটা দুঃসময়ের রাজনৈতিক ও গণতন্ত্রের সংকটের মধ্য দিয়ে আমরা যখন চলছি তখন তার থাকার শূণ্যতা আমাদের ব্যাথিত করছে। আমারা আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি অসুস্থ হয়ে বন্দি অবস্থায় আছেন তার পক্ষ থেকে, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসিত হয়ে বাস করছেন এবং আমাদের দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার পক্ষ থেকে এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।”

 

‘‘ তার সহধর্মিনী যিনি সারা জীবন তার সঙ্গে থেকেছেন এবং মৃত্যুর শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত থেকেছেন তাকে যেন আল্লাহ‘তালা এই শোক সহ্য করবার তওফিক দান করেন।”

 

‘নোয়াখালীতে দাফন বিকালে’

 

বিএনপি নেতারা জানান, পল্টনে জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে করে মওদুদ আহমদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নোয়াখালীতে। সেখানে বাদ জুম্মা নোয়াখালীর কবিরহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠে তৃতীয় এবং বাদ আসর কোম্পানিগঞ্জ সরকারি মুজিব মহাবিদ্যালয় মাঠে চতুর্থ জানাজার পর বিকাল সাড়ে ৫টায় কোম্পানিগনজের বাসভবনের মানিকপুরে সর্বশেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে মওদুদ আহমদকে দাফন করা হবে।

 

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ১৯৪০ সালের ২৪ মে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির(বর্তমান বাংলাদেশ) নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা মাওলানা মমতাহ উদ্দিন আহমদ ও মা বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে মওদুদ আহমদ চতুর্থ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »