শিরোনামঃ
নরসিংদীতে জেলা কারাগারে ২৫০০ টাকায় মিলে ১ কেজি গরুর মাংস চরম ভোগান্তিতে আসামীরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার নিয়ে কিছু কথা আজ দেবীর বোধন কাল মহাষষ্ঠী রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউপি নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা আহত-৫ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার বৌমার সন্তান না হওয়ায় নিজেই গর্ভবতী হলেন শাশুড়ি! যশোরের ঝিকরগাছায় মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র নিহত অগ্নিবীণা ক্রীড়া ও যুব সংঘের পক্ষ থেকে আবু নাইম ইকবালকে ফুলেল শুভেচ্ছা এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা করায় এসআই হাসান বরখাস্ত হালদায় ৯ কেজি ওজনের আঘাতপ্রাপ্ত মৃত মা মাছ উদ্ধার
বরগুনায় নতুন ভবনের ডিজাইন পরিবর্তন করলে রক্ষা

বরগুনায় নতুন ভবনের ডিজাইন পরিবর্তন করলে রক্ষা পেতে পারে খেলার মাঠ


ফটো-অলিউল্লাহ ইমরান

অলিউল্লাহ ইমরান, বরগুনাঃ দুর্যোগ কবলিত বরগুনা জেলা। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড়া সিডরে লন্ডভন্ড করে দেয় এই অঞ্চল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সদর উপজেলার ১০ নং নলটোনা ইউনিয়নের গর্জনবুনিয়া গ্রাম। তখন এই গ্রামে একই স্থান থেকে মারা যায় ৬৯ জনের মতো। তাদেরকে একটি নির্ধারিত জায়গায় গণকবর দেওয়া হয়েছিলো। আশেপাশে ছিলো না কোন সাইক্লোন শেল্টার। গণকবরের পার্শ্ববর্তী গর্জনবুনিয়া স্কুল এন্ড কলেজ রয়েছে। সেখানেই ঝুঁকির মধ্যে এক তলা বিশিষ্ট ভবনে আশ্রয় নেয় অসংখ্য মানুষ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মাঠ জুড়ে নির্মিত হচ্ছে ফয়েল খায়ের ১শ/১০৩ স্কয়ার ফিট তিন তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। গর্জনবুনিয়া সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। তবে তাদের অনুরোধ একমাত্র স্কুলের যে খেলার মাঠটি রয়েছে সেটাও রক্ষা করতে হবে। তাই এই ভবনটি ডিজাইন পরিবর্তন করে ১৬০/৪০ স্কয়ার ফিট করলে ভবন নির্মিতও হলো সাথে খেলার মাঠটিও রক্ষা পেল। মাদক, ইভটিজিং থেকে যুব সমাজকে ফিরাতে হলে একমাত্র হচ্ছে খেলাধুলা। এছাড়াাও এই মাঠটির পূর্ব পাশে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা সেখানে খেলাধুলা করে। আশেপাশে নেই কোন স্কুল কলেজ কিংবা বড়া কোন মাঠ। তাই মাঠটিরও গুরুত্ব অপরিসীম। এ ব্যাপারে একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা নদীর পাড়ের মানুষ। জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়া আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ভবনটি পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে আজ। তবে আমাদের খুব কষ্ট লাগছে যে ছোটবেলা থেকে এই মাঠটিতে আমরা খেলাধুলা করে আসছি । অনুষ্ঠিত হয়েছে বড়া বড়া টুর্নামেন্ট। আজ একটু ভুলের জন্য এই মাঠটি নষ্ট হতে যাচ্ছে। আমাদের খেলাধুলার করার মত আর কোন জায়গা থাকবেনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলাধুলার উপরে অনেক জোর দিয়েছে। খেলাধুলার কারণেই মাদক, ইভটিজিং থেকে ফিরে আসছে যুবরা। তাই উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে আমাদের জোর অনুরোধ ভবনটির ডিজাইন পরিবর্তন করলে রক্ষা হতে পারে আমাদের এই খেলার মাঠটি। এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য ও গর্জনবুনিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক সভাপতি  আ: মান্নান বলেন, অনেক সাধনার পর আমরা একটি ভবন পেয়েছি। সে ভবনটি আমরা হারাতে চাইনা। তারপরও ভবনটির ডিজাইন পরিবর্তন করলে আমাদের অত্র অঞ্চলের এই খেলার মাঠটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো। তাই আমাদের বরগুনা ১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, ভবনটির পাশাপাশি যে ভাবে খেলার মাঠটি রক্ষা করা যায় এমনটা বিবেচনায় জোর অনুরোধ জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে গর্জনবুনিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, ভবনটি আমাদের একান্ত প্রয়োজন। অনেক কষ্টের পর আজ আমরা এই ভবনটি পেয়েছি। যাতে করে গর্জনবুনিয়ার মানুষ যে কোন দুর্যোগে আশ্রয় নিতে পারে। সিডরের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এখানকার মানুষ। এটা ভেবেই এই ভবনটি দেওয়া হয়েছে এখানে। তবে খেলার মাঠ রক্ষা করা স্থানীয় যে দাবি তারও যুক্তি রয়েছে। বর্তমানে মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে এই এলাকা। সেখান থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে খেলাধুলার প্রতি জোরদার করতে হবে। আমি বরগুনার সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসকসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে দেখবো। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, গর্জনবুনিয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট। এতে অংশগ্রহণ করেছে  ৯ নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন বনাম ১০ নং নলটোনা ইউনিয়ন। সেই খেলাটি উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ পদচারণায় মাঠটির কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে মাঠটি। প্লানের পাশে অতিরিক্ত বিশিষ্ট যে জায়গা রয়েছে সেখানে ভবনটি নির্মাণ করলে রক্ষা পেতে পারে এই খেলার মাঠটি। পূণাঙ্গ কাজ শুরু হওয়ার আগে ভবনটির ডিজাইন পরিবর্তনের পাশাপাশি মাঠটি রক্ষা করা একান্ত দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার মুঠোফোনে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কমপক্ষে ফয়েল খায়ের ২শ ভবন নির্মাণ করেছি। প্রত্যেকটা ভবনের ডিজাইন ১শ/১০৩ স্কয়ার ফিট তিন তলা বিশিষ্ট। এটা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। ওখানের মাঠটির গুরুত্ব অনেক। যা আমি নিজ চোখে দেখেছি। কিন্তু কি করার আছে। ডিজাইন পরিবর্তন করা আমার কোন ক্ষমতা নাই।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2020 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »