বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মানিকগঞ্জে আগাম সবজি

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মানিকগঞ্জে আগাম সবজি আবাদে ধুম


ফটো-সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: দুই-তিন দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মানিকগঞ্জে ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে শীতকালীন সবজি চাষ। নানা জাতের সবজির আবাদ নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জেলার কয়েকটি উপজেলায় নানা জাতের সবজি আবাদে ধুম পড়েছে। স্থানীয় বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হচ্ছে এসব সবজি।

এ বছর সবজি চাষে লাভের মুখ দেখার স্বপ্ন দেখছেন তারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৭টি উপজেলায় ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া ও সিংগাইর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। চলতি মৌসুমে এর লক্ষ্যমাত্রা গতবারের চেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  লাউ চাষ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর বেশি ভাগ জমিতে শিম, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, বেগুন, লালশাক, পালংশাক ও মুলা আবাদ করেছেন কৃষক।

এ বছর বন্যায় অনেক সবজি খেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে নতুনভাবে সবজি চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন কৃষক। সদরের চান্দিরচর গ্রামের কৃষক খবির মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘গেল বন্যায় মানিকগঞ্জে সবজির আবাদে অনেক ক্ষতি হয়েছে।

এতে কৃষক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই ভালো লাভের আশায় এবার আগাম সবজি চাষ করেছি। ফলনও ভালো হচ্ছে।’  সবজি পরিচর্যা করছেন কৃষক তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে কপি চাষ করেছি। সার, বীজ সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার টাকা।

আবহাওয়া অনুকূল ও বাজারদর ভালো থাকলে এ মৌসুমে লাখখানেক টাকার কপি বিক্রি করতে পারব। সাটুরিয়ার ফকুরহাটি ইউনিয়নের জান্না গ্রামের শরীফ হোসেন বলেন, ‘বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই কার্তিক মাসের শুরুর দিকে সবজির আবাদ শুরু করেছি।

দুই বিঘা জমিতে লাউ, শিম ও ঝিঙার আবাদ বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার লাউ ও ৮০ হাজার টাকার ঝিঙা বিক্রি করেছি। দুই সপ্তাহ পর থেকে শিম বাজারে নামবে। ফলন ভালো হলে প্রায় দেড় থেকে-দুই লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারব।

 ফুলকপির আবাদ র‌্যাইল্লা গ্রামের সবজিচাষি আক্তার হোসেন জানান, তিনি সারা বছরই সবজি চাষ করে থাকেন। তবে বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতকালীন আগাম সবজি চাষে বেশি লাভ করে থাকেন। সবজি চাষ করেই সংসারের সমস্ত খরচ চালানোর পাশাপাশি বেশ কিছু জমি কিনেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, ব্যাংকেও জমেছে কিছু সঞ্চয়। আক্তার হোসেন বলেন, ‘এ বছর অন্যান্য সবজির পাশাপাশি ৫০ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অগ্রহায়ণ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত এই লাউ বিক্রি করতে পারব। এরই মধ্যে ৯০ হাজার টাকার মতো লাউ বিক্রি করেছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2020 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »