প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেলেন ১৫ মুসলিম-কথা

প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেলেন ১৫ মুসলিম-কথা রাখলেন: বাইডেন


ফটো-সংগৃহীত

আমেরিকা প্রতিনিধিঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ক্ষমতার এমন পালাবদল দেখেনি বিশ্ববাসী। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে পপুলার ও ইলেকটোরাল উভয় ভোটে বিজয়ী জো বাইডেনকে হোয়াইট হাউসে পৌঁছাতে যত ধরনের সংকট আর প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে, তা অতীতের কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে ঘটেনি। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি-ধমকি আর তার উগ্র সমর্থকদের তাণ্ডবলীলার পরও গণতন্ত্রের উর্বর ক্ষেত্র যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রেরই বিজয় হয়েছে। নানা সংকট, শঙ্কা উতরে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত দিন ২০ জানুয়ারিই জো বাইডেনের অভিষেক হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রশাসনে বৈচিত্র্য আনতে তিনি বৈষম্য কমাবেন। নির্বাচনে জিতে তিনি তার কথা রেখেছেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে মুসলিম, কৃষ্ণাঙ্গ ও বিভিন্ন জাতিসত্তার সংখ্যালঘুদের স্থান দিয়েছেন তার মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনে। বাইডেনের মন্ত্রিসভা মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস অর্ধকৃষ্ণাঙ্গ ও অর্ধভারতীয়। তাকে নির্বাচনের মাধ্যমে বাইডেন ইতিমধ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন। বাইডেন সমাজের বিভিন্ন অংশের লোকদের সমন্বয়ে একটি দল গঠনের জন্য বিভিন্ন দল ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছেন। ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল সংগঠন কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সাথে যুক্ত থাকার কারণে দুজন ডেমোক্র্যাটÑসোনাল শাহ ও অমিত জনিকে বাদ দেওয়ার কারণেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

নতুন এই মন্ত্রিসভা ইতিহাসের অন্য কোনো মন্ত্রিসভার তুলনায় আমেরিকান জনগণের বেশি প্রতিনিধিত্ব করবে। গেল ডিসেম্বরে বাইডেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বর্তমান পর্যন্ত তিনি ‘নজিরবিহীন মনোনয়ন’ তুলে ধরেছেন। জো বাইডেনের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ১৫ জন মুসলিম আমেরিকানকে বিভিন্ন পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। নতুন মার্কিন সরকার কীভাবে আসন্ন চার বছরে কাজ করতে চলেছে তার প্রতিফলন হচ্ছে এত বেশি মুসলিম মুখ।

উল্লেখ্য, শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুসলিমদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর ফলে নিষিদ্ধ হয়ে পড়া মুসলিম দেশগুলোর নাগরিকেরা এখন আমেরিকার ভিসার জন্য আবারও আবেদন করতে পারবেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একনজরে বাইডেন প্রশাসনে নিযুক্ত মুসলিম-আমেরিকানদের তালিকা :

১. আয়েশা শাহ : হোয়াইট হাউসের ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি অফিসের অংশীদার-বিষয়ক পরিচালক।
২. সামিরা ফাজিলি : মার্কিন জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের (এনইসি) উপপরিচালক।
৩. উজরা জিয়া : নাগরিক সুরক্ষা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার-বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি।
৪. আলি জায়েদি : জাতীয় জলবায়ুবিষয়ক উপ-উপদেষ্টা।
৫. জায়েন সিদ্দিক : হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ।
৬. রিমা ডোডিন : হোয়াইট হাউসের আইনবিষয়ক অফিসের উপপরিচালক।
৭. আলি জাফরি : হোয়াইট হাউসের জলবায়ুবিষয়ক উপদেষ্টা।
৮. মাহের বিটার : হোয়াইট হাউস জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিলে গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর।
৯. সামিয়া আলী : হোয়াইট হাউসের ডেপুটি অ্যাসোসিয়েট কাউন্সেল।
১০. সালমান আহমেদ : স্টেট ডিপার্টমেন্টের নীতি পরিকল্পনা পরিচালক।
১১. ফারুক মিঠা : উপসহকারী প্রতিরক্ষাসচিব।
১২. ডানা শানাত : হোয়াইট হাউসের আইনবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা।
১৩. ব্রেন্ডা আবদেলাল : ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের উপদেষ্টা।
১৪. ইসরা ভাটি : ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের সিনিয়র উপদেষ্টা।
১৫. সায়মা মহসিন : পূর্বঞ্চলীয় জেলায় নিযুক্ত মার্কিন অ্যাটর্নি।
হোয়াইট হাউস-কাশ্মীর সংযোগ : সামিরা ফাজিলি কাশ্মীরে জন্ম নেওয়া চিকিৎসক দম্পতি মুহাম্মদ ইউসুফ ফাজিলি ও রফিক ফাজিলির মেয়ে। তিনি মূলত গোজওয়ারা এলাকা থেকে এসেছেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নির্বাচন ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে উদ্্যাপিত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য মুসলিম কর্মকর্তারাও যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। কাশ্মীরে জন্মগ্রহণকারী অপর নারী আয়েশা শাহও হোয়াইট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »