নরসিংদী জেলার ছয়টি উপজেলায় উৎপাদিত ফল-ফলাদির মধ্যে

নরসিংদী জেলার ছয়টি উপজেলায় উৎপাদিত ফল-ফলাদির মধ্যে সবজিরও বেশ সুনাম রয়েছে


ফটো-সাইফুল ইসলাম রুদ্র

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নরসিংদী জেলার ছয়টি উপজেলায় উৎপাদিত ফল-ফলাদির মধ্যে সবজিরও বেশ সুনাম রয়েছে। তবে সবজি উৎপাদনে শিবপুর, রায়পুরা ও বেলাব সবচেয়ে এগিয়ে। নরসিংদীর পাইকারি বাজারগুলোতে শীতকালীন হরেক রকম সবজি এখনো ভরপুর।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রতিটি উপজেলায় চলছে শীতকালীন আগাম সবজি চাষ। এসব উৎপাদিত সবজি এখন ক্ষেত থেকে জেলার বিভিন্ন পাইকারি বাজারগুলোতে আসতে শুর করেছে। কৃষকরা বাজারে নিয়ে আসছে লাউ, ঝিঙা, পেঁপে, কাকরোল, ঢেরস, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন শীতকালীন শাক-সবজি। বাজারে চাহিদা থাকায় দামও পাচ্ছে ভালো। তবে বৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ফুল কপি, বাধা কপির দেখা নেই এসব বাজারে।

 

কৃষি বিভাগ বলছে, বৃষ্টির ফলে সবজির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। তবে দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা।

শিবপুর মরজাল এলাকার কৃষক রমজান মিয়া জানান, সম্প্রতি বৃষ্টির ফলে বেশিরভাগ কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে এখনো এখানকার উৎপাদিত বাধাকপি, ফুলকপির দেখা মেলেনি। তবে লাউ, ঝিঙা, বেগুন, পেঁপেসহ অন্যান্য সবজির ফলন ভাল হয়েছে।

 

বাজার প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, ঝিঙ্গা ২৫, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা। জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি বারৈচা বাজার, নারায়ণপুর বাজার, জংলি শিবপুর, মরজাল বাজার, শিবপুর বাজারগুলো শীতকালীন সবজিতে এখন সয়লাব।

 

সপ্তাহের সোম, বুধ ও শুক্রবার বসে বারৈচা বাজার, রবিবার ও বৃহস্পতিবার বসে জংলী শিবপুর বাজার, মঙ্গলবার বসে নারায়ণপুর বাজার। এছাড়াও সপ্তাহে প্রতিদিনই এসব বাজারগুলোতে সবজি কেনাবেচা হয়।
দেশের বৃহত্তম সবজির হাট হওয়ায় ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা ট্রাক নিয়ে আসেন সবজি কিনে নেয়ার জন্য। প্রতি হাটেই হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে এই বাজারগুলোতে। আর এসব বিষমুক্ত সবজি চলে যায় দেশের বিভিন্ন সবজি বাজারে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, নরসিংদীর মাটি পুষ্টি গুণে ভরপুর হওয়ায় এখানকার সবজির ফলন তুলনামূলক অন্যান্য জেলার চেয়ে ভালো। আর ঢাকার পাশের জেলা হওয়ায় এই জেলায় বিষমুক্ত সবজির চাহিদাও বেশি। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ৪০ শতাংশ সবজির চাহিদা মিটিয়ে থাকেন নরসিংদীর চাষিরা।

 

নরসিংদী জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক লতাফত হোসেন জানান, এবার ২ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন আগাম সবজির চাষ খুব ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না হলে শীতকালীন সবজির ফলন আরো ভালো হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »