নরসিংদীর রায়পুরাতে কেন হচ্ছে টেটাযুদ্ধ প্রতিনিয়ত বাড়ছে

নরসিংদীর রায়পুরাতে কেন হচ্ছে টেটাযুদ্ধ প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যুর পাল্লা


ফটো-সাইফুল ইসলাম রুদ্র

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরায় প্রতিহিংসা মূলক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে এবং অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতাশালী একটি মহলের দুই পক্ষের টেঁটাযুদ্ধে আহতসহ নিহতের ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আবদুল্লাপুর গ্রামে এই টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। উক্ত টেটাযুদ্ধে অনেকে অংশগ্রহণ করলে পুলিশ কিছু সংখ্যক লোকদের আটক করেও তাদের মধ্যে সমঝোতা আনতে পারে নি। উক্ত ঘটনায় চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর গ্রামে প্রত্যক্ষদর্শী বিল্লাল মিয়া বলেন, আমরা স্থানীয় সাধারণ মানুষ এলাকার ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী নেতাদের নির্দেশ মোতাবেক উক্ত টেটাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তাদের নির্দেশ না মানলে তারা আমাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের টেটাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে হয়। এই ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধ ৬ জনের মধ্যে পাঁচজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আবদুল্লাপুর গ্রামের মো. জাকির মিয়া (৪০), জীবন মিয়া (২০), মো. শাহাদৎ (১৮), জুনায়েদ (৯) ও নীলু মিয়া (৪৫)। টেঁটাবিদ্ধদের প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রথম চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে উভয়পক্ষের ক্ষমতাশালী দুইজন নেতা আছে। তাদের মধ্যে বেশ প্রভাবশালী নেতা হচ্ছে নাজিম উদ্দিন মেম্বার। তার নির্দেশনা অনুযায়ী একপক্ষের স্থানীয় সাধারণ জনগণ টেটাযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, তার নির্দেশনা মোতাবেক কেউ টেটাযুদ্ধে অংশ না নিলে তাদের ঘর-বাড়ীসহ শারীরিক নির্যাতন করা হয়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে নাজিম উদ্দিন মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুটা স্বীকার করেও পরবর্তীতে উক্ত বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে দুর্বল পার্টি নামে পরিচিত অর্থাৎ অপর পক্ষের নেতা হলেন মোঃ মদন মিয়া। তিনি বলেন আমার আপন ভাইকে মেরে ফেলেছে তারা। আমরা তাদের থেকে দুর্বল বিধায় প্রতিনিয়ত তারা আমারদের উপর বর্বর নির্যাতন চালাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা না করলে হয়তো আমরা বেঁচে ফিরতাম না। তিনি আরো বলেন, এর আগে গত ১৩ মে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ওই এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে মো. নুরল হক (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। টেঁটাযুদ্ধের সময় এলাকায় ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে তা দেখার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তিনি। এদিকে আজ ২৩ শে সেপ্টেম্বর রোজ বুধবার দুপুর ১ ঘটিকার সময় রায়পুরা উপজেলার নির্বাহী অফিসার, উভয়পক্ষের নেতাদের ১০ জন করে ডেকে পাঠায়। পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত হয় যে, আপাতত কোন পক্ষই মারামারি ও সংঘর্ষে জড়ানো যাবে না বলে জানান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন মোঃ মদন মিয়া।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2020 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »