নরসিংদীতে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানির

নরসিংদীতে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ-টাকা ছাড়া মিলে না গাড়ি


ফটো-সাইফুল ইসলাম রুদ্র

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী: নরসিংদীতে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যসহ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাড়ি আটকিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সিএনজি, অটো ও বিভাটেক গাড়ি চালকদের নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে। হাইওয়ে পুলিশের এসব কুকীর্তির কারণে সাধারণ পরিবহণ চালকরা গত কিছুদিন পূর্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বারৈচা বাস স্টেশন এলাকায় মহাসড়কের মাঝে বিক্ষোভ কর্মসূচী করে। এ সময় প্রায় দেড় ঘন্টা যাবৎ তারা বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে। এদিকে বারৈচা এলাকার সিএনজি চালক কাশেম মিয়া অভিযোগ করে সংবাদ কর্মী রুদ্রকে জানান, নরসিংদী হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ হায়দার ও ভৈরব থানার ওসি মামুন মিয়া প্রতি সিএনজিকে রাস্তার মধ্যে সুকৌশলে আটকিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে রফাদফা করে গাড়ি ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া চালকদের অভিযোগ, নরসিংদী হাইওয়ে থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে বেলাব ও রায়পুরা এলাকার মহাসড়কের বিভিন্ন সংযোগ সড়কে চলাচলকারী সিএনজি, অটোরিকশা ও বিভাটেক চালকদের গাড়ি অন্যায়ভাবে আটক করে। এ সময় ৭ হাজার টাকা ঘুষ দিলে তারা রাস্তার মধ্যেই গাড়ি ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের চাওয়া অনুযায়ী ঘুষ না পেলে তারা গাড়ি থানায় নিয়ে যায় এবং মাসের পর মাস আটক করে রাখে। এতে গাড়ির অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেকেই নি:স্ব হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক সময় হাইওয়ে থানা পুলিশ গাড়ি আটক করে ভাঙচুর, গাড়ির টায়ার কেটে দেওয়া, গর্তে ফেলে দেওয়াসহ নানাভাবে হয়রানি করে থাকে। তাছাড়া হাইওয়ে পুলিশের এমন উশৃঙ্খল আচরণ থেকে বাঁচার জন্য অনেক চালকরা অনেক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে মারাত্মক আহতও হয়েছে পরিবহণ চালক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্ধ শতাধিক সিএনজি চালক বলেন, তারা হাঁস-মুরগী বিক্রয় করে এবং কিস্তির টাকা নিয়ে এই তিন চাকার সিএনজি কিনেছে। এখন যদি সামান্য কিছু হলেই তাদের সিএনজিচ আটক করে তাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। এতে করে চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়ছে। এবিষয়ে নরসিংদী ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তা হায়দার বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে হাইওয়ের রাস্তায় কোন তিন চাকার থ্রি-হুইলার বা ইজি বাইক চলবে না। তাই আমরা বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এগুলো আটক করছি। তবে টাকার বিষয়ে কথা বললে তিনি এ বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। এদিকে রায়পুরা উপজেলা ভিটি মরজাল এলাকায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা টাকা নিয়ে রাস্তায় গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা অহরহ দেখা যাচ্ছে। এ সময় ভৈরব থানার হাইওয়ে ওসির নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মী রুদ্রকে জানান, তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর কিছুক্ষণ পরপরই এ বিষয়টাকে ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন সংবাদকর্মীদের দ্বারা তিনি সংবাদকর্মী রুদ্রকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2020 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »