শিরোনামঃ
বোয়ালখালীতে ১২ ঘন্টার ব্যাবধানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে পিতা-পুত্রের মৃত্যু মোর আব্বার জ্বর কলাগুলা বেচতে না পারলে খামু কি নরসিংদীতে একদিনে ১৮১ জনের করোনা শনাক্ত, একজনের মৃত্যু মেয়র আইভীর বাসায় সমবেদনা জানাতে এমপি খোকা সোনারগাঁয়ে চলমান লকডাউনে ইউএনওর তৎপরতা বৃদ্ধি, জরিমানা-১০ হাজার সাংবাদিকের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন নরসিংদীতে বিধি নিষেধ অমান্যে ৩০ মামলায় জরিমানা মেঘনা নদী ফুলদীর একাংশ ভরাট করে জাহাজ মেরামত-নির্মাণ কারখানা গড়ে তোলার অভিযোগ চুরিতে লাখে ২৫ হাজার টাকা কমিশন দিতে হয় রায়হান মেম্বারকে কক্সবাজারে পাহাড় ধস, রোহিঙ্গাসহ ৮ জন নিহত
নরসিংদীতে সাদেকুর রহমান সাদেক ৭১’এর রণাঙ্গনের একজন

নরসিংদীতে সাদেকুর রহমান সাদেক ৭১’এর রণাঙ্গনের একজন বীর যোদ্ধা


ফটো-সাইফুল ইসলাম রুদ্র

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নরসিংদীতে সাদেকুর রহমান সাদেক। ৭১’এর রণাঙ্গনের একজন বীর যোদ্ধা। পাকবাহিনীকে হটাতে বাংলার এ গর্বিত সন্তান দেশপ্রেম আর অসীম সাহসিকতা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। রখে দাঁড়িয়ে ছিলেন পাকবাহিনীর বিরদ্ধে।

 

দেশ মাতৃকার ডাকে সারা দিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে অংশ নিয়েছেন বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে। তাদের সেই যুদ্ধের বিনিময়ে জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। বাঙালি জাতি পেয়েছে লাল-সবুজের পতাকা।

 

এই মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুর রহমানের বাড়ি নরসিংদী পৌর শহরের ভাগদী মহল্লায়। তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা জড়িত। ১৯৯২ সাল থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত পর পর ৫ বছর জেলার শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসাবে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০০৩-২০০৪ সালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন। ২০০৮ সালে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও ২০১৫ সালে নরসিংদী পৌরসভা নির্বাচনেও অংশ নেন তিনি।

 

৭১’ সালে কর্নেল নুরজ্জামানের অধিনে ৩ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন সাদেকুর রহমান। রণাঙ্গনের এ বীর নিজে স্কুটার চালিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন ঔষধি ও ফলদ গাছের চারা রোপণ করে যাচ্ছেন। তাই তাকে অনেকে বৃক্ষপ্রেমিক সাদেক চাচা বলে ডাকেন।

 

সাদেক চাচা যেখানেই ফাঁকা জায়গা পান, সেখানেই রোপণ করেন ঔষধি আর ফলদ গাছের চারা। হ্যান্ড মাইকে দেশাত্মবোধক গান ও মাঝে মাঝে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজিয়ে তার স্কুটার চালান। এ স্কুটারের গায়ে লাগিয়েছেন বিভিন্ন স্লোগান, ‘ফল ও ঔষধি গাছ লাগান, পরিবশে বাঁচান, প্রতিবেশী বাঁচান, নিজে বাঁচুন দেশকে বাঁচান’।

 

এছাড়া স্কুটার থামিয়ে গাছ লাগানোর উপকারিতা নিয়ে পথসভা করেন বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে, বিলি করেন পরিবেশ বন্ধু ফলজ ও ঔষধি গাছের লিফলেট। এসময় নিজ উদ্যোগে ও খরচে রোপণ করেন বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি গাছ।

 

যেখানেই যান তিনি, সবসময় স্কুটারে করে দুই-একটা গাছের চারা তার সঙ্গে নিয়েই যান। তার এ গাছ লাগানোর সীমাবদ্ধতা শুধু নরসিংদীতেই নয়, দেশব্যাপী তার বিচরণ।

 

সাদেকুর রহমান জানান, তার বয়স এখন আশির কাছাকাছি। ১৯৭১ সালে কর্নেল নুরজ্জামানের অধীনে ৩ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন তিনি। কিন্তু স্বাধীনতার পরও তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এ যুদ্ধ হলো মানুষকে সচেতনতা করার যুদ্ধ।২০০৩ সাল থেকে তিনি গাছ লাগানোর উপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে আসছেন। সেইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে লাগিয়েছেন অসংখ্য গাছ। গত দেড় যুগে তিনি প্রায় ৫ হাজারের বেশি ঔষধি আর ফলজ গাছ লাগিয়েছেন।

 

আর শুধু নরসিংদী শহরের ঢাকা-চট্রগ্রাম রেললাইনের পাশেই লাগিয়েছেন কয়েকশত তালগাছ। কোর্ট রোড সংলগ্ন জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ঈদগার পাশে লাগিয়েছেন অর্জুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি গাছ। এছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে তিনি রোপণ করেছেন ফলের চারা। বিতরণ করছেন বিনামূল্যে বিভিন্ন গাছের বীজ।

 

তাছাড়া নরসিংদীর বাইরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে, রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান, বিজয় স্বরণী, পরিবেশ অধিদপ্তর, সাভার, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন সরকারি জায়গায় লাগিয়েছেন হরতকি, বহেরা, অর্জুনসহ নানা ঔষধি গাছ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশেও ছায়া দিচ্ছে তার লাগানো অসংখ্য গাছ।

 

নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি পৌঁছে দিতে চান ঔষধি গাছের উপকারিতা। সেইসঙ্গে দেশ থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করতে ঔষধি গাছের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি। ‘কাঠ গাছ লাগাবো বন জঙ্গলে, ফল আর ঔষধি গাছ লাগাবো বাড়ির আঙিনা-মসজিদ প্রাঙ্গণে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে গাছ লাগানোর পাশাপাশি তিনি কাজ করে যাচ্ছেন জনসচেতনতায়।

 

বৃক্ষপ্রেমিক সাদেকুর রহমান গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘আমি ১৮ বছর ধরে গাছ নিয়ে কাজ করছি। কত গাছ লাগিয়েছি তার হিসাব রাখিনি, রাখার প্রয়োজনও মনে করিনি। কাঠ গাছ আমাদের শুধু কাঠ দেয়, কিন্তু ফলদ ও ঔষধি গাছ কাঠের পাশাপাশি ফলও দেয়। আবার কোনো কোনো গাছের ছাল-বাকল ওষুধ হিসেবেও কাজে লাগে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘সবাই শুধু সবুজ বিপ্লবের কথা বলেন। কাজ করে কয়জন? আবার কাজ করলেও কাঠ গাছের প্রতি নেশা থাকে অনেকেরই। সব মিলিয়ে বিপ্লব থেকে সরে আসি আমরা। সত্যিকারের সবুজ বিপ্লব ঘটাতে এবং এ দেশ থেকে শতভাগ দারিদ্র্য দূর করতে হলে ঔষধি এবং ফলজ গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। আমরা যৌবনে চাকরি করলে আমি লাখপতি থাকতাম। সন্তানরা আদর্শ মানুষ হতো। কিন্তু আমার একটাই দুঃখ সেবায় নেমে মানুষ পেলাম না।

 

এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘এখন আমার মনে একটাই সুখ। আমার রোপিত গাছের ছায়ায় বসে যখন আলাপ করি ও এ গাছের ফল খেয়ে মানুষ যখন আমার জন্য দোয়া করে, এযেন এক আলাদা আনন্দ। তবে আমি গাছের উপকারিতা তুলে ধরতে কাজ করে যাচ্ছি। আমি চাইবো, আমাদের পরের প্রজন্ম ঔষধি ও ফলদ গাছের প্রতি গুরত্ব দেবে এবং সবুজ বিপ্লবের সম্মুখে থেকে কাজ করে যাবে।

দয়া করে নিউজটি লাইক করুন এবং শেয়ার করুন..
  •  
  •  
  •  
  •  
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »