শিরোনামঃ
চট্রগ্রামের বোয়ালখালীতে শতকোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার নরসিংদীতে জেলা কারাগারে ২৫০০ টাকায় মিলে ১ কেজি গরুর মাংস চরম ভোগান্তিতে আসামীরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার নিয়ে কিছু কথা আজ দেবীর বোধন কাল মহাষষ্ঠী রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউপি নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা আহত-৫ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার বৌমার সন্তান না হওয়ায় নিজেই গর্ভবতী হলেন শাশুড়ি! যশোরের ঝিকরগাছায় মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র নিহত অগ্নিবীণা ক্রীড়া ও যুব সংঘের পক্ষ থেকে আবু নাইম ইকবালকে ফুলেল শুভেচ্ছা এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা করায় এসআই হাসান বরখাস্ত
নগরীতে এখনও চলছে সাড়ে ৩ হাজার ‘চলন্ত

নগরীতে এখনও চলছে সাড়ে ৩ হাজার ‘চলন্ত বোমা’! যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা!


ফটো-চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন সড়কের অলিগলতে এখনও চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ ৩ হাজার ৭’শ ৫৫টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা (চলন্ত বোমা)। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির সিলিন্ডারগুলো যে কোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়ে ঘটতে পারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যে নগরীতে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই গাড়িগুলো চলাচল করছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। পুলিশ বলছে, নগরীতে চলাচল নিষিদ্ধ, অভিযান চলমান রয়েছে। বিআরটিএ বলছে, সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে, পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় আছি। যাত্রীরা বলছেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে উপায়ান্তর না থাকায় আতঙ্কীত হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। চালকরা বলছেন, ভালোভাবেই চালাচ্ছি কোন সমস্যা হচ্ছে না, নষ্ট হলে মালিকের মিস্ত্রিরা ঠিক করে দিচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ৪টি সিএনজি ট্যাক্সি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ৩ জনের প্রাণহানিসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মো. কাওসার নামে একজন চালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভালভাবেই চালাচ্ছি, কোন সমস্যা হচ্ছেনা। নষ্ট হলে মালিকের মিস্ত্রিরা ঠিক করে দিচ্ছে। সিলিন্ডার টেস্ট এর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, সিলিন্ডারে ঠিকঠাক গ্যাস ভর্তি করলে কোন সমস্যা নেই। যদি কেউ অতিরিক্ত নেয় তাহলে ঝুঁকি আছে। আপনার গাড়িটা মেয়াদোত্তীর্ণ, সমবিস্ফোরিত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে কী করবেন ? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কপালে যা আছে তাই হবে। এই শহরে হাজার হাজার গাড়ির সিলিন্ডার টেস্ট না করে চালাচ্ছে, সেরকম আমিও চালাচ্ছি। অন্য কোন কাজ শিখিনি, আল্লাহ যতকাল বাচিয়ে রাখে এটা চালিয়েই বউ বাচ্চাদের খাওয়াতে হবে। সিএনজি চালিত অটোরিকশা দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করা ২ নং জালালাবাদ বায়েজিদের জেট, এ আবাসিকের মো. রায়হানুর রহমান নামে একজন যাত্রী সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বৈশ্বিক একটা এনজিওতে চাকরির সুবাদে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে উপায়ান্তর না থাকায় আতঙ্কীত হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। মেয়দোত্তীর্ণ একেকটা গাড়ি একেকটি চলন্ত বোমা। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিআরটিএ’র উচিত গাড়িগুলো স্ক্র্যাপ করা, নাহলে পুনরায় রি-টেস্ট করে রোড়ে চলাচলের উপযোগী করা। আমাদের একটা জীবনের উপর অনেকগুলো জীবন নির্ভরশীল। একটা দুর্ঘটনায় অনেকগুলো জীবনের স্বপ্ন , সুন্দর ভবিষ্যৎ নিঃস্ব হয়ে যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত একটা ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন যাত্রী জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করি ঠিকই, সব সময় একটা আতঙ্ক কাজ করে। যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শহরের মেয়াদোত্তীর্ণ প্রত্যেকটি গাড়ি বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই রোড়ে চলাচল করান। কেউ পুলিশকে মাসোহারা দেয় আবার কেউ বড় নেতাদের মাসোহারা দেন, যাতে কেউ ডিস্টার্ব না করে। তা নাহলে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলো নগরীতে চলাচল করতে দিতো না। জানা যায়, নগরীতে ৩ হাজার ৭’শ ৫৫ টি মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি চালিত অটোরিকশা রয়েছে। তন্মধ্যে ২০০২ সালের তৈরি ও নিবন্ধিত রয়েছে ৯৫ টি, ২০০৩ সালের রয়েছে ৪৪ টি এবং ২০০৪ সালের ৩ হাজার ৬’শ ১৬টি। এসব গাড়ির লাইফ টাইম দেওয়া হয়েছে ১৫ বছর করে। ২০০৪ সালের গাড়িগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালের ডিসম্বরে। এছাড়াও ২০০২-৩ সালের তৈরিকৃত ও নিবন্ধিত গাড়িগুলো ভাঙ্গার নির্দেশ অমান্য করে কোন এক অজানা কারণে স্ক্র্যাপের আওতায় আনেননি মালিকরা। যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম নগরীতে ও জেলায় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজনের প্রাণহানিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমরা চাই পরবর্তীতে আর কোন মায়ের কোল যাতে খালি না হয়। বর্তমানে যেসব সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো রোড়ে চলাল করছে সেগুলোকে চুয়েট থেকে পরীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন দিতে হবে। অন্যথায় এগুলোকে স্ক্যাপের ঘোষণায় এনে রোড়ে চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যদি মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলোতে কোন দুর্ঘটনা ঘটে তার দায়ভার বিআরটিএ’কে নিতে হবে।কারণ গাড়ির অনুমোদন দেয়া এবং বন্ধ করার এখতেয়ার একমাত্র বিআরটিএ’র। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, সিএমপি‘র পক্ষ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলো নগরীর সড়কে চলাচল করতে দিচ্ছি না। এসব গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী পরিচালক রায়হানা আক্তার উর্থী আমার সংবাদকে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো স্ক্যাপের আওতায় আনতে বিআরটিএ’র সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে , আমরা পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। কভিড-১৯ কারণে একটু লেট হচ্ছে। খুব শিঘ্রই স্ক্র্যাপের আওতায় এনে ভাঙ্গা হবে। তাছাড়া যেসব মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলো রোড়ে চলাচল করছে তা ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ বলে জানিয়ে দিয়েছি। এসব গাড়ি রোড়ে চলাচলের উপযোগী নয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2020 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »