ধামরাইয়ে ‘পদ্মা সেতু’ বানানো সেই স্কুলছাত্রকে নগদ

ধামরাইয়ে ‘পদ্মা সেতু’ বানানো সেই স্কুলছাত্রকে নগদ অর্থ দিলো এসডিআই


ফটো-সংগৃহীত

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: মাটি, বাঁশ, সিমেন্ট ও রঙ দিয়ে পদ্মা সেতুর আদলে সেতু বানিয়ে তাক লাগিয়ে দেওয়া ঢাকার ধামরাইয়ের সুতিপাড়া গ্রামের সেই স্কুলছাত্র সোহাগ আহম্মেদকে নগদ ১০ হাজার টাকা উপহার দিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক।

তিনি রোববার দুপুরে সোহাগ আহম্মেদের বাড়ির আঙিনায় তৈরি পদ্মা সেতুটি পরিদর্শন করে তাকে উৎসাহ দেন এবং ভবিষ্যতে যাতে সোহাগ আহম্মেদ ভালো একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে তার জন্য সকল সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন এসডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক।

সামছুল হক বলেন, গত ১১ এপ্রিল দৈনিক সমকালে স্কুলছাত্র সোহাগ আহম্মেদের বানানো পদ্মা সেতুর সংবাদ পড়ে আজ দেখতে আসলাম। সত্যিকারেই পদ্মা সেতুর আদলে সেতু বানিয়ে সে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতই কাজ করেছে।

বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশে এমন প্রতিভাবানদের প্রতিভা বিকাশে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করব। স্কুলছাত্র সোহাগ আহম্মেদ বলে, পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানোর দিনই সিদ্ধান্ত নিই আমি একটি সেতু বানাবো।

কিন্তু কোনো ধরনের নকশা ও পর্যাপ্ত অর্থ আমার কাছে ছিল না। এজন্য পর পর দুটি সেতু তৈরি করলেও তা ভেঙে যায়। পরে ইন্টারনেট থেকে নকশা সংগ্রহ করে হাত খরচের টাকা দিয়ে সিমেন্ট ও বাঁশ সংগ্রহ করি। এরপর পাঁচ মাস ধরে ধীরে ধীরে সেতুটি তৈরি করি। প্রথম দিকে বাবা-মা অনেক বকাঝকা করতো।

আশপাশের মানুষও কটু কথা বলতো। কিন্তু আমি আমার মত কাজ করেছি। এখন দেশের দুরদূরান্ত থেকে আমার সেতুটি দেখার জন্য মানুষ ভিড় করছে। এতেই বাবা-মা অনেক খুশি। আমারও ভালো লাগছে।

তবে আরও ভালো কিছু করতে চাই। আমি বড় হয়ে একজন ভালোমানের ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। দেশে আর কোনো সেতু তৈরিতে যেন বিদেশিদের সহযোগিতা প্রয়োজন না হয়, সেজন্য আমি প্রস্তুত হতে চাই।

বাড়ির আঙিনায় সেতুটি তৈরিতে মাটি, বাঁশ, সিমেন্ট, মোবাইলে ব্যবহার করা ছোট বাতি ও সাদা-কালো রঙ ব্যবহার করেছে সোহাগ। সেতুটিতে চারটি লেন করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে বাতি। নিচ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রেললাইন। নিচে মাটি খুঁড়ে রূপ দেওয়া হয়েছে পদ্মা নদীর।

দুই লেনের মাঝখানে ফুলের চারাসহ এক প্রান্তে রয়েছে চেকপোস্ট। এক কথায় প্রাণবন্ত একটি পদ্মা সেতু। দেখে মন ভরে যায় দর্শনার্থীদের। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পদ্মা সেতু দেখতে দুর-দুরান্ত থেকে তার বাড়িতে মানুষ ভিড় করছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »