দশ দফা দাবিতে কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে

দশ দফা দাবিতে কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে বেনাপোল ষ্টাফ এসোসিয়শনের সদস্যরা


ফটো-আব্দুর রহিম রানা

আব্দুর রহিম রানা, স্টাফ রিপোর্টার: ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক থেকে বুধবার রাতে ফেনসিডিল ও বিভিন্ন প্রকার ঔষধ উদ্ধার করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

আর এ ঘটনায় উক্ত কাজে নিয়োজিত সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধি মেসার্স খলিলুর রহমান এন্ড সন্সের বর্ডারম্যান আক্তারুজ্জামানকে আটক করা হয়। পরে রাত ১২ টার সময় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাগজে তার স্বাক্ষর সহ কাস্টমস পারমিট কার্ড কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে এবং দশ দফা দাবিতে কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে বেনাপোল ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস ষ্টাফ এসোসিয়শনের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১২ থেকে তারা এ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। দশ দফা দাবিগুলো হলো, ১- কাস্টমসের অধীনে পোস্টিং মানিনা। ২- কোন ভারতীয় ট্রাকে অবৈধ মালামালের জন্য ষ্টাফ এসোসিয়শনের সদস্য দায়ী থাকবে না। ৩-কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ব্যতিরেকে কাস্টমস সরকার পারমিট কার্ড বাতিল মানবো না। ৪- ষ্টাফ এসোসিয়শনের কোন সদস্যের সাথে অসদাচরণ করা চলবে না।

৫- যত্রতত্র কাস্টমস সরকার পারমিট কার্ড/লাইসেন্স বাতিল করা মানিনা। ৬- এনজিও কর্মি মুক্ত কাস্টমস চাই। ৭- ষ্টাফ এসোসিয়শনের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে ষ্টাফ এসোসিয়শনকে অবহিত করতে হবে। ৮- যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাস্টমস সরকার পারমিট পরিবর্তন করতে হবে।

৯- সুষ্ঠ কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ১০- বর্ডারে এন্ট্রি পয়েন্টে প্রত্যেক ভারতীয় ট্রাক ১০০% চেক করে ঢোকানো হোক। তাহাতে ষ্টাফ এসোসিয়শনের কোন আপত্তি নেই। তবে ট্রাক ঢোকানোর পরে যদি কোন অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়, তার জন্য ষ্টাফ এসোসিয়শনের কোন সদস্য দায়ী থাকবে না।

এসময় বক্তারা বলেন, করোনা কালিন সময়ে আমাদের বর্ডাম্যান ভাইয়েরা ভারতে প্রবেশ করতে পারেন না।

ভারতীয় এক্সপোর্টাররা ও ট্রাক ড্রাইভার/হেলপাররা আমদানি পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে থাকে। সেক্ষেত্রে পণ্য আনলোডের পূর্বে কিভাবে আমাদের বর্ডারম্যানরা বুঝবে তাতে অবৈধ মালামাল আছে কিনা। আর সেক্ষেত্রে কেনইবা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সদস্যদের পারমিট কার্ড কেড়ে নেবে। তারা বলেন, কাস্টমস হাউজের প্রত্যেকটি শুল্কায়ন শাখা ও পরীক্ষণ শাখায় অসংখ্য এনজিও কর্মি রয়েছে।

তারা কাস্টমস অফিসারদের বিভিন্ন রকম ভুলভাল বুঝিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্টস সদস্যদের হয়রানি সহ বাড়তি উৎকোচ দাবি করেন। যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাস্টমস অফিসাররাও সিএন্ডএফ এজেন্টস সদস্যদের সাথে অসদাচরণ করে থাকেন। আমরা সদস্যরা ২৪ ঘন্টাই সরকারি রাজস্ব আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখি। তাহলে কেন আমাদের সাথে এ আচরণ। আমাদের তো সরকার কোন বেতন ভাতা দেয় না। তারপরও রাজস্ব আদায়ে আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকি।

বর্ডারম্যান আক্তারুজ্জামান বলেন, আমাকে আটক করে আমার পারমিট কার্ড কেড়ে নিয়ে, কাগজে আমার সই নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সেক্ষেত্রে ভারতীয় ড্রাইভারকে না আটক করে কেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো? আর এ অবৈধ মালামালের জন্য আমি কেন দায়ী হবো? সঠিক তদন্ত পূর্বক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান তিনি। উল্লেখ্য, বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বেনাপোল স্থলবন্দরের টিটিআই টার্মিনাল থেকে ২০০ বোতল ফেন্সিডিল ও বিভিন্ন প্রকার ঔষধ জব্দ এবং ভারতীয় ট্রাকটি আটক করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »