তারাকান্দায় প্রতিবন্ধী শিশু হত্যার প্রধান আসামি ইয়াসিন

তারাকান্দায় প্রতিবন্ধী শিশু হত্যার প্রধান আসামি ইয়াসিন গ্রেপ্তার


ফটো-তপু রায়হান রাব্বি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জঙ্গলে পড়ে থাকা প্রতিবন্ধী শিশু সানজিদার লাশের প্রধান হত্যাকারী আসামি ইয়াসিন সহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪।

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ কর্তৃক প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইফতেখার উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারাকান্দা থানার হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মোঃ আবুল হাশিম আকন্দের পুত্র ইয়াসিন আকন্দ (১৬) কে এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ১৭ জানুয়ারি রোজ রবিবার দিবাগত রাত ১ টার সময় গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে সুপারী কুড়ানোর নাম করে ভিকটিম সানজিদা আক্তার কে তার বাড়ির পাশের জঙ্গলে নিয়ে সে এবং শাকিল (১৯) পিতা-টুটু পাগলা মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবার নিকট তারাকান্দা বাজার বিকাশ এজেন্ট নিতিশ কুমার সিংহ (৫৭) পিতা নীরন্ধ্র চন্দ্র সিংহ এর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২০,০০০/= টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না পাওয়াতেই আটককৃত আসামি শিশু সানজিদা আক্তার কে হত্যা করার কথা স্বীকার করে।

তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নিতিশ কুমার সিংহ (৫৭) কেও গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১৪। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র‌্যাব-১৪ এই কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, উপজেলার তারাকান্দা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মোঃ শাহজাহান আকন্দের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে কামারিয়া বিশেষ শিক্ষা বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সানজিদা গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির উঠান থেকে অপহরণ হয়।

এসময় অপহরণকারীরা একটি চিরকুটে লিখে যাওয়া নম্বরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে লিখে যায়।

অনেক খোঁজাখুঁজির পরও শিশুটির সন্ধান পায়নি আত্নীয়স্বজনরা। বুধবার অপহরণকারীরা ফোন দিয়ে তাদের বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। টাকা না পাঠানোয় তার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমিও দেন।

এব্যাপারে তারাকান্দা থানায় বুধবার সাধারণ ডায়েরী করার পর ১৫ জানুয়রি রোজ শুক্রবার সকালে বাড়ীর পাশের জঙ্গলে শিশুটির লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী।

পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার আহমারুজ্জামান ও ময়মনসিংহের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দ। এ সময় তারা শিশুটির পরিবারের লোকজনের সাথেও কথা বলেন এবং নম্বর ট্যাকিং করে অপহরণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছিল পুলিশ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »