ঝিনাইগতীতে উৎপাদন হচ্ছে বিষ মুক্ত সবজির চাষ

ঝিনাইগতীতে উৎপাদন হচ্ছে বিষ মুক্ত সবজির চাষ


ফটো-মো: আলমগীর হোসাইন

শ্রীবরদী-শেরপুরপ্রতিনিধি: করোনা মহামারীর কারনে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব যখন স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনপরিস্থিতিতে চারপাশে নীরবতা, কোয়ারেন্টাইন,আইসোলেশন এবং লকডাউনের হাহাকার বানী। ঠিক এমন সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির চিত্র খুজতে গিয়েছিলাম ঝিনাইগাতী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি এবং কৃষক উভয় ঘনিষ্ঠভাবে জরিত। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির চালক কৃষি সমাজের স্বার্থ নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই বললেই চলে। ইতিমধ্যে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে কৃষকগণ তাদের মৌসুমি শাকসবজি সুবিধামত চাষ করেত পারছেন না। বিষমুক্ত সবজি চাষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ঝিনাইগাতী উপজেলার বানিয়া পাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান খলিল ও কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম। খলিলুর রহমান খলিল ২০শতাংশ জমিতে চিচিঙ্গা চাষ করেছেন। এছাড়াও চিচিঙ্গার সাথে তিনি লাল শাক এবং মূলা চাষ করেছিলেন। চিচিঙ্গা চাষের জন্য তিনি কোনো প্রকার কীটনাশক, সার, বিশ প্রোয়োগ না করে ভার্মি কম্পোস্ট,সেক্স ফেরোমন ফাঁদ,আদালত  হলুদ আঠালো ফাঁদ   জৈব বালাইনাশক পদ্ধতিতে চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। খলিলুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি গত মৌসুমে ১০শতাংশ জমিতে চিচিঙ্গা চাষ করেছিলেন এবং ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করে ছিলেনএবং লাল শাক ও মূলা বিক্রি করে আরও ৬০০০ টাকা পেয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন বৃষ্টির কারণে চলতি মৌসুমে জমি তৈরি করে বীজ রোপন করতে একটু দেরি হয়েছে। এবার ও বাম্পার ফলন পাব ইনশাল্লাহ।খলিলুর রহমান খলিলের মত বিষমুক্ত সবজি চাষ উৎপাদন করতে মাঠে নেমেছে কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম। তিনি জানান বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে হলে  রাসায়নিক সার ব্যবহার কমিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট, সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ,  ও জৈব বালাইনাশক পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। আমি২০ শতাংশ জমিতে শসা চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং সম্পূর্ণ রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই। বর্তমানে আবহাওয়ার কারণে কিছু সময় দেরিতে শসা চাষ করেছি। তাতে ফসলের ফলন কম হলেও বাজার মূল্য বেশি থাকবে। আশা করি লাভবান হব। এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহরীয়ার শামীম সাহেবের সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি  বলেন, কৃষকদের মাঠে কাজ করতে হয় ফসল পরিচর্যার করাব জন্য,যতই দুর্যোগ  থাকুক না  কেন তাদের ফসল পরিচর্যা করে যেতেই হবে।   বর্তমানে প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে  ফসলের ফলন কিছু কম হতে পারে।  তিনি আরো জানান যে  গত বছরে খলিলুর রহমান  খলিল  ১০ শতাংশ জমিতে  ৪০ হাজার টাকার চিচিঙ্গা  ও ৬ হাজার টাকার  লাল শাক ওমুলা  বিক্রি করেছেন। কিন্তু বর্তমানে  খলিলুর রহমান ২০ শতাংশ জমিতে  ৮০ হাজার টাকা লাভ হওয়ার কথা থাকলেও  প্রিতকুল আবহাওয়ার কারণে  ফলন কিছুটা  কম হবে।কিন্তু বাজার মূল্য যদি বেশি হবে। তিনি আরো জানান যে, আমরা কৃষকদের জৈব্য  সার, ভার্মি কম্পোস্ট সার এবংবালাইনাশক সবজি চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছি। রাসায়নিক কীটনাশক ও সার উৎপাদিত সবজি মানবদেহের জন্য ক্ষতি করে, তবে  সেক্স ফোরোমেন ফাঁদ  ও হলুদ আঠালো এবং জৈব্য বালাইনাশক ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি চাষ করা সম্ভব এ ব্যাপারে আমরা কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের নিরুৎসাহিত করে বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি চাষে উৎসাহিত করছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »