ছাতকে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা এক লম্পট

ছাতকে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা এক লম্পট গ্রেফতার অন্যটা লাপাত্তা


ফটো-হাসান আহমদ

ছাতক প্রতিনিধি: ছাতকে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা মামলায় ছবির আহমদ (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ। গেল ১৪ এপ্রিল দুপুরে তাকে সুনামগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

সে উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের ভূইগাঁও গ্রামের মৃত বশির মিয়ার ছেলে। জানা যায়, ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের নতূনবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে উত্যক্তসহ কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল গ্রেফতারকৃত সিএনজি অটো-রিকশা চালক ছবির আহমদ।

গত ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এসাইনমেন্ট জানার জন্য বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যায় স্কুল ছাত্রী। বেলা পৌনে দুইটার দিকে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার জন্য ধারণ বাজারের সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে গাড়ির অপেক্ষায় ছিল সে। এ সুযোগে লম্পট ছবির আহমদ, একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে হুসাইন আহমদকে সাথে নিয়ে তার নম্বর বিহীন সিএনজি অটো-রিকশায় জোরপূর্বক ওই স্কুল ছাত্রীকে তুলে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী ভুইগাঁও সিকন্দরপুর গ্রামের জনৈক নোয়াব আলীর বসত ঘরে নিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে ওই বসত ঘরে তারা স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এবং জড়িয়ে ধরে মোবাইলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। এসময় ভিকটিমের সুর চিৎকারে আশপাশ লোকজনের উপস্থিতির ভয়ে লম্পটরা পালিয়ে গেলে পাশবিকতা থেকে রক্ষা পায় স্কুল ছাত্রী। আর এ সুযোগে ভিকটিম  ঘটনাস্থল থেকে বাড়িতে পৌঁছে তার মায়ের কাছে বিষয়গুলো জানায়। পরে ভিকটিমের মা বাদি হয়ে লম্পট ছবির আহমদ ও তার সহযোগি হুসাইন আহমদকে অভিযুক্ত করে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এর প্রেক্ষিতে গেল ১৪ এপ্রিল রাত পৌনে তিনটার দিকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলাবাজার এলাকার পুলিশের অভিযানে সূত্রমর্ধণ গ্রাম থেকে লম্পট ছবিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। ছাতক-দোয়ারার সার্কেল এএসপি বিল্লাল হোসেন, ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক আতিকুল আলম খন্দকার এবং শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। এদিকে, ঘটনার পনেরদিন মধ্যে লম্পট ছবির গ্রেফতার হলেও তার সহযোগি হুসাইন আহমদ এখনো গ্রেফতার হয়নি। উদ্ধার হচ্ছেনা সিএনজি অটো-রিকশাটিও।

অভিযোগ উঠেছে লম্পট হুসাইনকে মামলা থেকে বাঁচানোর জন্য একটি প্রভাবশালী মহল বিভিন্ন ভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, থানার উপ-পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ঘটনার মূল আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার সহযোগিকেও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। নম্বর বিহীন সিএনজি অটো-রিকশাটিও উদ্ধার হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..
visitor counter
All rights reserved © 2021 দেশের গর্জন | Desher Garjan
Design & Developed BY Subrata Sutradhar
Translate »